নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় আকাশপথের ‘বেতাজ বাদশা’ ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সে (IndiGo) বড়সড় পটপরিবর্তন। গত ডিসেম্বরের নজিরবিহীন উড়ান বিপর্যয়ের দায় মাথায় নিয়ে সোমবার পদত্যাগ করলেন সংস্থার চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (CEO) পিটার এলবার্স। সোমবার (১০ মার্চ) স্টক এক্সচেঞ্জ ফাইলিংয়ের মাধ্যমে ইন্ডিগো জানিয়েছে, এলবার্সের পদত্যাগপত্র অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে। নতুন সিইও নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাহুল ভাটিয়া নিজেই এয়ারলাইন্সের রাশ ধরছেন।
সাফল্যের খতিয়ানে ডিসেম্বরের ‘ক্ষত’: ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব নেওয়া এলবার্সের আমলে ইন্ডিগো অভাবনীয় আন্তর্জাতিক বিস্তার ঘটিয়েছিল। তাঁর নেতৃত্বেই সংস্থাটি বিশ্বের বৃহত্তম এয়ারক্রাফট অর্ডারের রেকর্ড গড়ে এবং কেবল ‘লো-কস্ট ক্যারিয়ার’ থেকে বেরিয়ে বিজনেজ ক্লাস ও ইউরোপে সরাসরি উড়ান শুরু করে। কিন্তু গত বছরের ৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া অপারেশনাল ‘মেল্টডাউন’ তাঁর সাফল্যের খতিয়ানে বড় ক্ষত তৈরি করে। নতুন পাইলট ডিউটি রোস্টার ও বিশ্রাম সংক্রান্ত নিয়ম পালনে ব্যর্থতার জেরে গত ৫ ডিসেম্বর এক দিনেই ১,৬০০-র বেশি ফ্লাইট বাতিল করে রেকর্ড গড়েছিল ইন্ডিগো। এই ঘটনার জেরে ডিজিসিএ (DGCA) সংস্থাকে ২২.২০ কোটি টাকা জরিমানা করে, যা ভারতের বিমান চলাচলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
‘ম্যায় হুঁ না’— কর্মীদের আশ্বস্ত করলেন ভাটিয়া: দায়িত্ব নেওয়ার পর মঙ্গলবার কর্মীদের একটি আবেগঘন ইমেল পাঠিয়েছেন রাহুল ভাটিয়া। সেখানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করেছেন, “গত ডিসেম্বরে যা ঘটেছে, তা হওয়া উচিত ছিল না।” সামনের সারির কর্মীদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, “আপনারা কোনও দোষ না করেও পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন।” নিজের ইমেলের নিচে হিন্দি সিনেমার সংলাপের আদলে ‘ম্যায় হুঁ না’ (Main Hoon Naa) লিখে কর্মীদের আশ্বস্ত করেছেন সংস্থার কর্ণধার।
সরকারি চাপ ও প্রস্থান: গত তিন মাসের টানাপোড়েন এবং সরকারি চাপের মুখে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হলো অভিজ্ঞ বিমান বিশেষজ্ঞ পিটার এলবার্সকে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ডিসেম্বরের সেই নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার পর থেকেই তাঁর বিদায় এক প্রকার নিশ্চিত ছিল। আপাতত রাহুল ভাটিয়ার নেতৃত্বে ইন্ডিগো হারানো সুনাম পুনরুদ্ধার করতে পারে কি না, সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।