নিউজ ডেস্ক: সাগরে বিজেপি নেতা ত্রিলোকেশ ঢালিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বড় সাফল্য পেল সুন্দরবন জেলা পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পরিতোষ প্রামাণিক নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতের বাড়ি সাগরের দক্ষিণ হারাধনপুরের মাইতিচকে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, রাজনৈতিক কোনও কারণ নয়, বরং পাওনা টাকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদের জেরেই ওই বিজেপি নেতাকে খুনের ছক কষা হয়েছিল। হাসপাতাল সূত্রে খবর, গুলিবিদ্ধ ত্রিলোকেশবাবু বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছেন।
পাওনা টাকার বিবাদ ও ‘সুপারি’ কিলার: পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত পরিতোষের সাগরে একটি টাইলসের দোকান রয়েছে। সেখান থেকে ত্রিলোকেশবাবু বাড়ি তৈরির সময় কয়েক লক্ষ টাকার সামগ্রী কেনাকাটা করেছিলেন। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেই বকেয়া টাকা বারবার চাওয়া সত্ত্বেও ত্রিলোকেশবাবু তা মেটাননি। এই নিয়ে দু’জনের মধ্যে অতীতেও বেশ কয়েকবার বচসা হয়েছিল। পুলিশের দাবি, পরিতোষকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে, টাকা না পেয়েই সে ত্রিলোকেশবাবুকে প্রাণে মারার ছক কষে। নিজে না জড়িয়ে, অন্য একজনকে ‘সুপারি’ দিয়ে এই গুলিকাণ্ড ঘটিয়েছে সে।
চিরুনি তল্লাশি ও উদ্ধার: বৃহস্পতিবার ধৃত পরিতোষ প্রামাণিককে কাকদ্বীপ মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ এখন মূল অভিযুক্ত বা ‘সুপারি’ কিলারের খোঁজে সাগরদ্বীপ জুড়ে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে। যে স্কুটারে চড়ে এসে আততায়ী গুলি চালিয়েছিল, সেটিকে ইতিমধ্যেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে আগ্নেয়াস্ত্রটির খোঁজ এখনও চলছে। সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার বিশ্বচাঁদ ঠাকুর বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছে।”
রাজনীতি না কি ব্যক্তিগত আক্রোশ? নির্বাচনের মুখে বিজেপি নেতার ওপর গুলিকাণ্ডকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছিল। তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ব্যক্তিগত আক্রোশের বিষয়টি সামনে আসায় তৃণমূল শিবির কিছুটা স্বস্তিতে। সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা দাবি করেছেন, “এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণেই ওই বিজেপি নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। নির্বাচনের আগে বিজেপি নতুন ইস্যু খুঁজে পাওয়ায় যে কোনও ঘটনায় তৃণমূলকে জড়ানোর চেষ্টা করছে। এটা ঘৃণ্য রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই না।”