নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার রাতের আচমকা কালবৈশাখীর ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা। মাত্র আধঘণ্টার তাণ্ডবে কোথাও উড়ে গিয়েছে ঘরের চাল, কোথাও উপড়ে পড়েছে মহীরূহ। ভেঙে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি ও তার। দুই জেলা মিলিয়ে কয়েকশো পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে। ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে ঝড়ের ডাল কুড়োতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক মহিলার।
স্থানীয় সূত্রে খবর, কালিয়াগঞ্জ ব্লকের রাধিকাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। ব্লক প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান, ঝড়ে অন্তত চারশো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টিনের চাল উড়ে যাওয়ার পাশাপাশি মাটির ও ইটের দেওয়াল ভেঙে পড়েছে। রাধিকাপুর, গোটগাঁও, উদগ্রাম, ফরিদপুর সহ একাধিক গ্রামে বিদ্যুৎ পরিষেবা পুরোপুরি বিপর্যস্ত। শুক্রবার সকালে কালিয়াগঞ্জ শহরের ধনকৈল মোড় সংলগ্ন এলাকায় ঝড়ে ভেঙে পড়া গাছের ডাল সংগ্রহ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন বিমলা দাস (৫১) নামে এক মহিলা। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঝড়ের দাপটে ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুতের তারের জেরেই এই দুর্ঘটনা বলে জানা গিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলির অবস্থা শোচনীয়। রাধিকাপুর গ্রামের রেখা দাসের আক্ষেপ, “সারারাত জেগে ছিলাম। ঘরের চাল উড়ে গিয়েছে, সমস্ত জিনিস ভিজে নষ্ট হয়ে গিয়েছে।” পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এলাকায় যান কালিয়াগঞ্জের বিডিও বিদ্যুৎবরণ বিশ্বাস সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। বিডিও জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ৪০০ পরিবারের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং জেলা প্রশাসনকে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশমণ্ডি ও তপন ব্লকেও ঝড়ের তাণ্ডব চলেছে। কুশমণ্ডির ২ নং করঞ্জী অঞ্চলে ভুট্টা ও গম খেত পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। কৃষি দফতর সূত্রের খবর, প্রায় ৪০০ হেক্টর গম এবং ১০০ হেক্টর ভুট্টার ক্ষতি হয়েছে। তপন ব্লকের হরসুরা, দ্বীপখণ্ডা ও হজরতপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় শিলাবৃষ্টিতে পাকা সরিষার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিঘার পর বিঘা জমির ফসল নষ্ট হওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে কৃষকদের। দুই জেলাতেই বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করার কাজ চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা দ্রুত সরকারি ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।