নিউজ ডেস্ক: বাইরে ঝুলছে গ্রাফিক্স ডিজাইনিংয়ের বোর্ড, অথচ ভেতরে রমরমিয়ে চলছে প্রতারণার কারবার। অশোকনগরের এক অভিজাত আবাসনের আড়ালে চলা এমনই এক ভুয়ো কল সেন্টারের পর্দাফাঁস করল বারাসত সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে অতর্কিতে হানা দিয়ে এই চক্রের তিন পাণ্ডাকে গ্রেফতার করেছেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের নাম সৈকত দাশগুপ্ত, শান্তনু পাল ও বিশ্বজিৎ রায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অশোকনগর থানার চৌরঙ্গি এলাকার একটি আবাসনে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে একটি অফিস ভাড়া নিয়ে কাজ চলছিল। বিল্ডিং মালিকের দাবি অনুযায়ী, গ্রাফিক্সের কাজের নাম করেই ঘরটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত তিন-চার মাস ধরে সেখানকার কর্মীদের গতিবিধি এবং গভীর রাত পর্যন্ত যাতায়াত দেখে সন্দেহ দানা বাঁধে পুলিশের মনে। গোপন সূত্রে নির্দিষ্ট খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে ওই অফিসে হানা দেন সাইবার ক্রাইম থানার অফিসাররা।
তল্লাশি চালানোর সময় দেখা যায়, একাধিক যুবক-যুবতী কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন নিয়ে কাজে ব্যস্ত। পুলিশের উপস্থিতি টের পেতেই সেখানে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থল থেকে মোট ১৭ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর মূল তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অফিস থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে দু’টি ল্যাপটপ, একটি হার্ডডিস্ক, ১০টি মোবাইল ফোন এবং বেশ কিছু এটিএম কার্ড।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, গ্রাফিক্স অফিসের নাম ভাঙিয়ে আদতে এখান থেকেই প্রতারণার জাল বিছানো হয়েছিল। সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল এই চক্রের মূল লক্ষ্য। উদ্ধার হওয়া হার্ডডিস্ক ও মোবাইল ফোনগুলি খতিয়ে দেখে আরও কতজন এই জালিয়াতির শিকার হয়েছেন এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।