নিউজ ডেস্ক: বর্ষা আসতে এখনও ঢের দেরি, কিন্তু তার আগেই কপাল খুলে গেল কোলাঘাটের রূপনারায়ণ নদের মৎস্যজীবীদের। দীর্ঘ কয়েক দশকের খরা কাটিয়ে রূপনারায়ণের বুকে আছড়ে পড়েছে রূপোলি শস্যের ঝাঁক। মৎস্যজীবীদের জালে ধরা পড়ছে বিঘত প্রমাণ সাইজের ইলিশ, যা দেখে খুশির হাওয়া কোলাঘাট মাছ বাজারে। এক একটি নৌকায় গড়ে আট থেকে দশ কেজি ইলিশ উঠছে, যার বাজারদর কেজি প্রতি ১৫০০ থেকে ১৭০০ টাকা।
শোনা যায়, পরাধীন ভারতে ইংরেজ সাহেবদের কোলাঘাটের ইলিশ ভেট দিয়ে বহু ভারতীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আদায় করে নিতেন। সেই জগৎজোড়া সুনাম ধুলোয় মিশে গিয়েছিল গত কয়েক বছরে। রূপনারায়ণের নাব্যতা কমে যাওয়া, দূষণ আর ছোট ফাঁসের জালের যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে কোলাঘাটের ইলিশ কার্যত ইতিহাস হয়ে গিয়েছিল। বিপাকে পড়ে অন্য পেশায় ঝুঁকেছিলেন বহু মৎস্যজীবী।
কিন্তু চাকা ঘুরল গত বছর দুয়েক ধরে। কোলাঘাটের দেনানে কেন্দ্রীয় পরিবহণ মন্ত্রকের অধীন ভারতীয় অন্তর্দেশীয় জলপথ কর্তৃপক্ষ একটি জেটি তৈরির উদ্যোগ নেন। সেই কারণে নদের বেশ কয়েক কিলোমিটার অংশ জুড়ে ড্রেজিং (খনন) করা হয়। সম্প্রতি সেচ দফতরের উদ্যোগেও রূপনারায়ণ নদ সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। বিশালাকার সড়ক ও রেল সেতুর পিলারের ধাক্কায় জমে থাকা পলি সরে গিয়ে নদের নাব্যতা বেড়ে যাওয়ায় ফিরতে শুরু করেছে ইলিশের ঝাঁক।
পূর্ব মেদিনীপুরের প্রাক্তন মৎস্য আধিকারিক সুরজিৎ বাগ জানাচ্ছেন, “রূপনারায়ণে প্রচুর জ়ু-প্ল্যাঙ্কটন ও ফাইটো প্ল্যাঙ্কটন রয়েছে। তার টানেই ইলিশের ঝাঁক নদে থেকে গিয়েছিল। ড্রেজিংয়ের ফলে নদের নাব্যতা বেড়ে যাওয়ায় সেগুলো এখন ধরা পড়ছে।” এক ইলিশ ব্যবসায়ী উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেন, “আমার নিজের নৌকো রয়েছে। প্রতি দিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ কেজি ইলিশ ধরা পড়ছে। এক একটি ইলিশের ওজন এক কেজি থেকে ১২০০ গ্রাম।” কোলাঘাটের ইলিশের এই ‘কামব্যাক’ মৎস্যজীবী পরিবারগুলোতে এনেছে সচ্ছলতার মুখ।