নিউজ ডেস্ক: নিয়তির লেখন বোধহয় একেই বলে। দীর্ঘ দশ বছর আগে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিলেন মালদহের কালিয়াচকের টিংকর ঋষি (৫৭)। তিন বোন ধরেই নিয়েছিলেন দাদা আর ইহজগতে নেই। ঘরে রাখা টিংকরের ছবিতে নিয়মিত রজনীগন্ধার মালা উঠত, তিলক পড়ত চন্দনের। কিন্তু এক দশকের সেই অন্ধকার ঘুচিয়ে দিল একটি ভাইরাল ভিডিও। ওপার বাংলার এক ব্লগারের ক্যামেরায় ধরা দিলেন কালিয়াচকের সেই ‘মৃত’ দাদা।
কালিয়াচক ২ ব্লকের বাবলা এলাকার বাসিন্দা টিংকর ঋষি আংশিক মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। দশ বছর আগে কোনও এক ভোরে তিনি ঘর ছাড়েন। তারপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও লাভ হয়নি। সম্প্রতি বাংলাদেশের রংপুরের রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর সময় এক স্থানীয় ব্লগার তাঁর ভিডিও করেন। সেখানে অসংলগ্ন পোশাক আর উস্কোখুস্কো চেহারার মাঝেও টিংকরের স্মৃতি ছিল প্রখর। নিজের নাম ও পরিচয় দিতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁর বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার বাবলা এলাকায়।
এই ভিডিওটি নজরে আসতেই শোরগোল পড়ে যায় মোথাবাড়ি থানা এলাকায়। প্রতিবেশী তথা প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য প্রসেনজিৎ ঋষি ভিডিওটি দেখে চিনতে পারেন টিংকরকে। তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় তাঁর বোনেদের। জ্যান্ত দাদাকে ভিডিওর পর্দায় কথা বলতে দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি তিন বোন। মা-বাবা গত হয়েছেন অনেকদিন, এখন দাদাকে ফিরে পাওয়াই তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য।
কিন্তু সীমান্ত আর আইনি জটিলতা এখন তাঁদের বড় বাধা। প্রৌঢ় কী ভাবে সীমান্ত পার হলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও পরিবারের অনুমান, কালিয়াচক বা বৈষ্ণবনগর সীমান্তের কাঁটাতারের ফাঁক দিয়েই তিনি ওপারে পৌঁছে গিয়েছিলেন। বর্তমানে পরিবারের তরফে মোথাবাড়ি থানার পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে দাদাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আবেদন জানানো হয়েছে। প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, দশ বছর আগে মুছে যাওয়া সিঁদুর আর মালার স্মৃতি কাটিয়ে কবে আবার ঘরের ছেলে ঘরে ফেরে।