নিউজ ডেস্ক: বীরভূমের পাথর খাদানে মৃত্যুমিছিল যেন থামছেই না। গত বছরের সেই ভয়াবহ স্মৃতি টাটকা থাকতেই ফের বড়সড় ধস নামল জেলার মুরারই এলাকার একটি পাথর খাদানে। অসমর্থিত সূত্রে খবর, খাদানের গভীরে মাটি ও পাথরের তলায় চাপা পড়ে অন্তত দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। জখম হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন শ্রমিক। এই দুর্ঘটনা বীরভূমের বেআইনি খাদান ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের একবার প্রশাসনের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিল।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার মুরারইয়ের একটি খাদানে কাজ করার সময় আচমকাই ওপর থেকে পাথরের স্তূপ ধসে পড়ে। ঘটনাস্থলেই কয়েকজন শ্রমিক চাপা পড়েন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত মুরারই গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে মৃতদের নাম ও পরিচয় এখনও স্পষ্ট করেনি পুলিশ। খাদানটি বৈধ উপায়ে চলছিল নাকি কোনওরকম সুরক্ষাবিধি ছাড়াই অবৈধভাবে খননকাজ চালানো হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও ভূমি রাজস্ব দফতর।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি দীপক দাস সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন, দুর্ঘটনাকবলিত খাদানটি বীরভূম জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল নেতা সিরাজুল ইসলামের। দীপক দাসের দাবি, “এই দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মুরারইয়ের খাদানগুলিতে কোনও নিয়ম মানা হয় না। গোটা বীরভূম জুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ধস নামতে শুরু করেছে। ৪ মে ভোটের ফল ঘোষণার পরে গোটা দলটাই ধসে তলিয়ে যাবে।”
উল্লেখ্য, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে নলহাটির বাহাদুরপুর এলাকায় খাদান ধসে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই সময় এনআইএ (NIA) তদন্তের দাবি তুলেছিল বিরোধীরা। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ফের মুরারইয়ের এই ঘটনায় জেলার অবৈধ কারবার ও মাফিয়া রাজ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধল। শাসক শিবিরের তরফে অবশ্য এখনও এই দুর্ঘটনা বা মালিকানা নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।