নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি এসে পৌঁছাল নৈহাটির বড়মা কালীর হেসলে। রান্নার গ্যাসের (LPG) তীব্র সঙ্কটের জেরে কয়েক দিন আগেই ভক্তদের অন্নভোগ বিতরণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মন্দির কমিটি। কিন্তু হাজার হাজার ভক্তের আবেগ ও চাহিদার কথা মাথায় রেখে এবার বিকল্প পথের সন্ধানে নামলেন কর্তৃপক্ষ। সূত্রের খবর, এলপিজি সিলিন্ডারের অভাব মেটাতে এবার ডিজেল চালিত অত্যাধুনিক ওভেন ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে বড়মা মন্দির কমিটি।
নৈহাটির অরবিন্দ রোডে বড়মার মন্দির প্রায় ১০০ বছরের প্রাচীন। কথিত আছে, বড়মা কাউকে খালি হাতে ফেরান না। কিন্তু সিলিন্ডারের জোগান অনিয়মিত হয়ে পড়ায় প্রতিদিনের বিপুল পরিমাণ ভোগ রান্না কার্যত বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মন্দির কমিটির সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রাথমিকভাবে তিনটি বড় ডিজেল ওভেন আনার কথা ভাবা হচ্ছে। বড়মার নিত্যদিনের ভোগ রান্নার কাজে এই ওভেনগুলি ব্যবহার করা হবে। গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থাই জারি রাখার কথা ভাবছেন তাঁরা।
সঙ্কটের জেরে বর্তমানে মন্দিরে ভক্তদের বসিয়ে অন্নভোগ খাওয়ানো সাময়িকভাবে স্থগিত। প্রতি সোম, বুধ ও শুক্রবার ভক্তদের বসিয়ে এবং শনি ও মঙ্গলবার প্রায় ৩০০০ ভক্তের মধ্যে যে নিঃশুল্ক ভোগ বিতরণ করা হতো, তা-ও আপাতত বন্ধ। তাপসবাবু বলেন, “সিলিন্ডারের জোগান স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ভোগ বিতরণ বন্ধই থাকবে। তবে ডিজেল ওভেনের ব্যবস্থা হয়ে গেলে বা পরিস্থিতি ঠিক হলে আমরা আবার আগের মতোই নিয়ম শুরু করব।”
সারা বছরই কষ্টিপাথরের মূর্তিতে বড়মার নিত্যপুজো চলে। দেশ-বিদেশের অগণিত ভক্ত সারাবছরই ভিড় জমান এই মন্দিরে। দীপান্বিতা অমাবস্যায় বড়মার সেই কালজয়ী রূপ দেখতে লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল নামে নৈহাটিতে। এখন দেখার, ডিজেল ওভেনের হাত ধরে আবার কবে থেকে বড়মার অন্নপ্রাসাদ পেতে শুরু করেন সাধারণ ভক্তরা। আপাতত সেই দিকেই চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন হাজার হাজার পুণ্যার্থী।