নিউজ ডেস্ক: মালদহ মানেই আম, আর আম মানেই মালদহ। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই জেলার অর্থনীতি ও আবেগ আবর্তিত হয়েছে আমকে কেন্দ্র করে। কিন্তু যে মালদহের ফজলি বা ল্যাংড়া বিশ্বজুড়ে সমাদৃত, সেই জেলারই নিজস্ব প্রায় ১৭০ থেকে ২৫০ প্রজাতির আম আজ বিলুপ্তির পথে। জিলিপিগাড়া, দুধকোমল কিংবা আলতাপেটির মতো বিচিত্র সব নামের আমগুলো এখন কেবল প্রবীণ আমচাষিদের স্মৃতিমেদুর আলোচনায় টিকে আছে। হারিয়ে যাওয়া এই ‘আম-সম্পদ’ রক্ষায় এবার যৌথভাবে কোমর বেঁধে নেমেছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার।
মালদহ ম্যাঙ্গো মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দশক আগেও জেলায় মেঘলাল, উলট কোমল, টিকিয়াপরী, কুমার খাঁ, কুমড়োজালি বা দিলখোসের মতো আমের ফলন হতো যথেষ্ট। আম বিশেষজ্ঞদের দাবি, এর মধ্যে কিছু প্রজাতি স্বাদে-গন্ধে বিশ্বখ্যাত আলফানসোকেও টেক্কা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। অথচ বাণিজ্যিক চাহিদার অভাব এবং ফলন কম হওয়ায় চাষিরা আম্রপালি বা হিমসাগরের মতো পরিচিত প্রজাতির দিকেই বেশি ঝুঁকেছেন। ফলে অযত্নে আর অবহেলায় হারিয়ে গিয়েছে মালদহের নিজস্ব ‘খাউকি’ বা বাড়ির বাগানের আমগুলো।
বিপন্ন এই প্রজাতিগুলোর পুনরুজ্জীবনে কাজ শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সাব ট্রপিক্যাল হর্টিকালচার’ (আইআইএসএইচ) এবং রাজ্য উদ্যানপালন বিভাগ। আইআইএসএইচ-এর মালদহ আঞ্চলিক স্টেশনের মুখ্য বিজ্ঞানী দীপক নায়ক জানান, বউ ভোলানি, রসগোল্লা, চিন্তামণি বা মেহেবুবার মতো প্রায় ২৫০ প্রজাতির আমের রেকর্ড রয়েছে এই জেলায়। এর মধ্যে ১৫০টি লুপ্তপ্রায় প্রজাতিকে বেছে নেওয়া হয়েছে সংরক্ষণের জন্য। ইতিমধ্যেই ‘উদ্ভিদ প্রজাতি ও কৃষক অধিকার সুরক্ষা আইন’-এর আওতায় ৪০টি প্রজাতির রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে।
সম্প্রতি ‘অ্যাপেডা’-র সহায়তায় বাহরিনের আন্তর্জাতিক বাজারেও মালদহের এই অপরিচিত অথচ সুস্বাদু আমগুলোকে পরিচিত করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। হরিশ্চন্দ্রপুর বা পুখুরিয়া এলাকায় এখনও হাতেগোনা কয়েকটি কুমার খাঁ বা আশুদাগি গাছ টিকে রয়েছে। সেগুলোকে মাধ্যম করেই নতুন চারা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। আম-জনতার পাত থেকে হারিয়ে যাওয়া এই স্বাদগুলো কি আবার ফিরে আসবে? সেই আশাতেই বুক বাঁধছেন জেলার প্রকৃত আমপ্রেমীরা।