নিউজ ডেস্ক: ডুয়ার্সের চা বাগান হোক বা কলকাতার অলিগলি— গোয়েন্দা জালে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এবার খাস বারাসতে ঘরভাড়া নিয়ে গা-ঢাকা দিয়ে থাকা এক মার্কিন ‘মার্সেনারি’ বা ভাড়াটে সেনাকে গ্রেপ্তার করল এনআইএ (NIA)। ধৃতের নাম ম্যাথু ভ্যানডাইক। অভিযোগ, গত ছয় মাস ধরে বাংলায় ডেরা গেড়ে মায়ানমারের ভারত-বিরোধী জঙ্গি সংগঠনগুলোকে গেরিলা যুদ্ধ ও আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল এই মার্কিন নাগরিক। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে পালানোর ছক কষার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে সে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ম্যাথু ‘সন্স অব লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল’ (SOLI) নামক এক কুখ্যাত আন্তর্জাতিক সামরিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। লিবিয়ায় গদ্দাফি-বিরোধী লড়াই থেকে শুরু করে সিরিয়ায় আইএস কিংবা ইউক্রেন যুদ্ধে পুতিন বাহিনীর বিরুদ্ধেও অস্ত্র ধরার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এবার তার নিশানায় ছিল ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল। বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে ভারতে ঢুকে সে বারাসত সংলগ্ন এলাকায় ঘাঁটি গেড়েছিল, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহার করা যায়। এখান থেকেই মিজোরামের নিষিদ্ধ সীমান্ত পেরিয়ে মায়ানমারে ঢুকে উলফা (পরেশ), এনএসসিএন (খাপলাং) বা কুকি লিবারেশন আর্মির মতো গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল এই ভাড়াটে সেনা।
এনআইএ-র দাবি, ইউরোপ থেকে চোরাপথে আসা ড্রোন মিজোরাম সীমান্ত দিয়ে মায়ানমারে পাচার এবং জঙ্গিদের ‘অ্যান্টি-ড্রোন’ প্রযুক্তির পাঠ দেওয়াই ছিল ম্যাথুর মূল কাজ। অনলাইনে ঘরভাড়া মেটানো এবং স্থানীয় সিম কার্ড ব্যবহার করে ভিন রাজ্যে থাকা নিজের শাগরেদদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত সে। ম্যাথু ছাড়াও দিল্লি ও লখনউ থেকে আরও ছয় বিদেশি নাগরিককে (যাঁদের মধ্যে তিনজন ইউক্রেনের) গ্রেপ্তার করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। ধৃতরা সকলেই ‘সলি’-র সদস্য বলে জানা গিয়েছে।
দিল্লির মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, তারা গোটা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত, তবে গোপনীয়তার খাতিরে কোনও মন্তব্য করতে নারাজ। এদিকে, বাংলায় থাকাকালীন ম্যাথুকে স্থানীয় স্তরে কেউ সাহায্য করছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। বারাসতের মতো জনবহুল এলাকায় এভাবে একজন আন্তর্জাতিক ভাড়াটে সেনা কীভাবে মাসের পর মাস গা-ঢাকা দিয়ে রইল, তা নিয়ে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে এই ঘটনা।