নিউজ ডেস্ক: ক্লাসের ফাঁকে শৌচালয়ে গিয়েছিল দ্বিতীয় শ্রেণির এক খুদে পড়ুয়া। কিন্তু সেই অবোধ শিশুকে বাথরুমের অন্ধকারে রেখেই নির্ধারিত সময়ের আগে স্কুল ছুটি দিয়ে, মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে বাড়ি চলে গেলেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা! বুধবার গঙ্গারামপুর পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের অনিলা নন্দী স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ছাত্রের নাম গৌরব টুডু। সে স্থানীয় একটি আশ্রমে থেকে ওই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। এদিন ক্লাস চলাকালীন সে শৌচালয়ে গিয়েছিল। অভিযোগ, শৌচালয়ে ছাত্রটি রয়েছে তা না দেখেই এবং স্কুল ছুটির নির্ধারিত সময়ের আগেই শিক্ষক-শিক্ষিকারা মূল গেটে তালা দিয়ে চলে যান।
অন্ধকার ও দুর্গন্ধময় শৌচালয়ে দীর্ঘক্ষণ আটকে থেকে কান্নাকাটি শুরু করে গৌরব। কিন্তু স্কুল চত্বর জনশূন্য হওয়ায় কেউ তার চিৎকার শুনতে পায়নি। শেষমেশ ভয় পেয়ে খুদে পড়ুয়াটি বাথরুমের দেওয়াল বেয়ে ঘুলঘুলির কাছে পৌঁছায় এবং বাইরে থাকা পথচলতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর স্থানীয় যুবক ইউসুফ আলি ও অন্যান্যদের নজরে আসে বিষয়টি। তাঁরাই তড়িঘড়ি উদ্যোগ নিয়ে ছাত্রটিকে উদ্ধার করেন।
গৌরব জানায়, “শৌচকর্ম সেরে বেরোতে গিয়ে দেখি বাথরুম ও স্কুল সব তালাবন্ধ। অনেক চিৎকার করেছি, কেউ শুনতে পায়নি। শেষে জানালা দিয়ে বাইরে ডাকার পর আমাকে উদ্ধার করা হয়।” প্রত্যক্ষদর্শী ইউসুফ আলি বলেন, “স্কুলের সামনে কাজ করার সময় বাথরুম থেকে কান্নার শব্দ পাই। ঘুলঘুলি দিয়ে উঁকি মেরে বিষয়টি বুঝতে পেরে গ্রামবাসীদের খবর দিই।”
ঘটনার খবর পেয়েই স্কুলে পৌঁছান গঙ্গারামপুরের বিডিও অর্পিতা ঘোষাল এবং প্রধান শিক্ষক বিজয় বর্মন। কেন নির্দিষ্ট সময়ের আগে স্কুল বন্ধ হলো এবং কেন ছাত্রকে পরীক্ষা না করেই তালা দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রধান শিক্ষককে কড়া জিজ্ঞাসাবাদ করেন বিডিও। প্রধান শিক্ষক বিজয় বর্মন বলেন, “আমরা সব দেখেই স্কুল বন্ধ করি, আজ কীভাবে এমন হলো বুঝতে পারছি না। এই ঘটনার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।”
এদিকে এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দায়িত্ববোধ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা। এ বিষয়ে গঙ্গারামপুর সদর চক্রের এস আই এনামুল শেখ জানান, বিষয়টি আপনাদের কাছে জানলাম। আমি এই মুহূর্তে নির্বাচনের কাজে ব্যস্ত আছি। পরবর্তীতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।