নিউজ ডেস্ক: বুধবার দুপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানার ফ্রেজারগঞ্জ উপকূলে এক বিশালাকৃতি ড্রোনকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। বকখালি থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে, পশ্চিম অমরাবতী গ্রামের কারগিল সমুদ্র সৈকতে লাল ও হলুদ রঙের এই রহস্যময় আকাশযানটি পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। সেটির গঠন অনেকটা যুদ্ধবিমানের মতো হওয়ায় এলাকায় মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ও কৌতূহল ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার পুলিশ এসে ড্রোনটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুরে এক মৎস্যজীবী নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ার সময় সমুদ্র সৈকতে এই অতিকায় বস্তুটিকে পড়ে থাকতে দেখেন। জেটের মতো দেখতে ওই যানের ভিতরে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক তার ও জটিল যন্ত্রাংশ নজরে আসে। খবর জানাজানি হতেই গ্রামের প্রচুর মানুষ সৈকতে ভিড় জমান। স্থানীয় বাসিন্দা সন্ধ্যা নাইয়া বলেন, “আগে কোনওদিন এখানে এমন জিনিস দেখা যায়নি। এটি কোথা থেকে এল, কেউ জানে না। দেখতে হুবহু ছোট বিমানের মতো।”

প্রশাসন ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ধরনের ড্রোন সাধারণত বিমান প্রতিরক্ষা বা নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয়। এটি একটি চালকবিহীন দ্রুতগতির আকাশযান, যা মহড়ার সময় শত্রুপক্ষের বিমানের ‘টার্গেট’ হিসেবে কাজ করে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, গভীর সমুদ্রে নৌবাহিনীর মহড়ার সময় কোনও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ড্রোনটি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল। এরপর সমুদ্রের ঢেউয়ে ভাসতে ভাসতে সেটি ফ্রেজারগঞ্জের উপকূলে চলে আসে।

আপাতত ড্রোনটিকে ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানায় রাখা হয়েছে। এটি ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর কি না বা ঠিক কোন মহড়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এখানে এসেছে, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে পুলিশ। উপকূলে এমন রণসজ্জার আকাশযান উদ্ধারের ঘটনায় সুন্দরবনের মৎস্যজীবী মহলে বেশ চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

Share on Social Media