নিউজ ডেস্ক: বাড়ির অমতে ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিলেন বছর উনিশের পূজা মণ্ডল। কিন্তু সেই প্রেমের মাসুল দিতে হলো নিজের জীবন দিয়ে। বুধবার ভোরে উত্তর ২৪ পরগনার ঘোলা থানার উত্তর যোগেন্দ্রনগর এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হলো ওই অন্তঃসত্ত্বা যুবতীর নিথর দেহ। বাপের বাড়ির অভিযোগ, পণের দাবিতে এবং দিনের পর দিন অত্যাচার চালিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে পূজাকে। এই ঘটনায় মৃতার স্বামী বাবলা হরিজন ওরফে ঋষি, শ্বশুর রাকেশ ও শাশুড়ি শকুন্তলাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মৃত পূজা মণ্ডলের বাড়ি নিউ বারাকপুরের পেয়ারা বাগান এলাকায়। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে বাবলার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল প্রেম করে, পরিবারের অমতে। প্রথম দিকে বাপের বাড়ির সঙ্গে কোনও যোগাযোগ না থাকলেও পুজোর পর থেকে অশান্তি শুরু হয়। অভিযোগ, স্বামী বাবলা কোনও কাজ করতেন না, অথচ পূজাকে বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনতে চাপ দিতেন। বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই যুবতীকে ঠিকমতো চিকিৎসকের কাছেও নিয়ে যেত না শ্বশুরবাড়ির লোকজন। অভাবের সংসারে প্রায় রোজই চলত অকথ্য নিগ্রহ।

বুধবার সকালে বাপের বাড়িতে খবর পাঠানো হয় যে পূজা অসুস্থ। খবর পেয়ে পরিজনরা সেখানে পৌঁছাতেই শিউরে ওঠেন। ঘরের খাটের নীচে পড়েছিল পূজার কঙ্কালসার দেহ। মৃত যুবতীর মামা গৌতম বিশ্বাসের দাবি, “বিয়ের পর থেকেই টাকার জন্য অত্যাচার চলত। এদিন সকালে অসুস্থতার খবর শুনে এসে দেখি বাড়িতে কেউ নেই, খাটের নীচে দেহ পড়ে আছে। গলায় ফাঁসের দাগ স্পষ্ট। আমাদের ভাগ্নিকে ওরা খুন করেছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পরেই স্বামী সহ শ্বশুর ও শাশুড়িকে পাকড়াও করা হয়েছে। বুধবার ধৃতদের বারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক স্বামী বাবলাকে চার দিনের পুলিশি হেফাজত এবং বাকিদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খোলসা হবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে এমন পরিণতিতে শোকের ছায়া নেমেছে নিউ বারাকপুরে।

Share on Social Media