নিউজ ডেস্ক: উত্তরপাড়ায় ফের সক্রিয় হয়ে উঠল বাইক-বাহিনী। বৃহস্পতিবার রাতে রামনবমীর পুজো দিয়ে ফেরার পথে এক গৃহবধূর গলার হার ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বি কে স্ট্রিট এলাকায়। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় এক দুষ্কৃতীকে হাতেনাতে ধরে ফেলে জনতা। চোর সন্দেহে তাকে গণপিটুনি দেওয়ার পর পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তরপাড়ার নাগরিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ মধুমিতা সেন জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি তাঁর মেয়ের সঙ্গে রামনবমীর পুজো দিতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে বি কে স্ট্রিটে আচমকাই একটি বাইকে করে দুই দুষ্কৃতী পিছন থেকে এসে তাঁর গলার হার ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। মধুমিতাদেবীর চিৎকারে পথচলতি মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা ধাওয়া করে এক দুষ্কৃতীকে ধরে ফেলেন। অন্যজন বাইক নিয়ে চম্পট দেয়। উত্তেজিত জনতা ধৃত যুবককে ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে গণপিটুনি দিতে শুরু করে। খবর পেয়ে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই যুবককে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত যুবক প্রাথমিক জেরায় নিজেকে সোদপুরের বাসিন্দা বলে দাবি করেছে। তার আসল পরিচয় এবং পলাতক সঙ্গীর খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। মধুমিতাদেবী আক্ষেপের সুরে বলেন, “এভাবে ছিনতাইয়ের শিকার হতে হবে ভাবিনি। পথেঘাটে বের হওয়া কি তবে দায় হয়ে পড়ল?” স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ছ’মাস ধরে উত্তরপাড়া এলাকা দুষ্কৃতীদের মুক্তাঞ্চলে পরিণত হয়েছে। চুরি, ছিনতাই এবং কেপমারির ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রায় আট মাস আগে ব্যান্ডেল থেকে এই ‘বাইক-গ্যাং’-এর তাণ্ডব শুরু হয়েছিল, যা এখন হুগলি জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মহিলাদের টার্গেট করে পিছন থেকে হার বা ব্যাগ ছিনতাইয়ের কৌশল নিচ্ছে এই গ্যাংটি। নির্বাচনের মুখে পুলিশের টহলদারি বাড়ানো সত্ত্বেও কীভাবে জনবহুল এলাকায় এই ধরণের সাহস দেখাল দুষ্কৃতীরা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নাগরিকরা। উত্তরপাড়া থানার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ওই এলাকায় সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পলাতক দুষ্কৃতীকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

Share on Social Media