নিউজ ডেস্ক: বিচারাধীন ভোটারদের তালিকা নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে নড়েচড়ে বসল নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্যের ২৩টি জেলার জন্য ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এবার অনলাইনে আবেদন জানানোর জন্য পোর্টাল খুলে দিল কমিশন। এর ফলে যে সমস্ত ভোটারের নাম তিনটি অতিরিক্ত তালিকার পরেও বাদ পড়েছে, তাঁরা এখন সরাসরি নিজেদের দাবি জানাতে পারবেন। গত ২১ মার্চ এই ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিজ্ঞপ্তি জারি হলেও আবেদনের পদ্ধতি নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল, যা শুক্রবার স্পষ্ট করল কমিশন।
অনলাইনে আবেদনের ধাপে ধাপে পদ্ধতি:
কমিশন জানিয়েছে, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাবে। আবেদনকারীদের সুবিধার জন্য নিচে পদ্ধতিটি দেওয়া হলো:
১. লগ-ইন: প্রথমে নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) অপশনটি বেছে নিতে হবে। সেখানে নিজের সচল মোবাইল নম্বর দিলে একটি ওটিপি (OTP) আসবে। সেটি দিয়ে লগ-ইন করতে হবে। ২. তথ্য যাচাই: লগ-ইন করার পর আবেদনকারীর এপিক (EPIC) নম্বর দিয়ে সার্চ করলেই পুরনো নথিতে থাকা নাম দেখা যাবে। ৩. আবেদনপত্র পূরণ: মূল ফর্মে চারটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পূরণ করতে হবে:
-
ঠিকানা: পিন কোড-সহ পূর্ণ ঠিকানা লিখতে হবে (অনূর্ধ্ব ২৫০ শব্দ)।
-
আপিলের কারণ: কেন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেল বা কেন আবেদন করছেন, তা বিস্তারিত জানাতে হবে (অনূর্ধ্ব ১০০০ শব্দ)।
-
প্রার্থনা: ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদনকারীর নির্দিষ্ট দাবি কী, তা উল্লেখ করতে হবে (অনূর্ধ্ব ৫০০ শব্দ)।
-
পুরনো রেকর্ড: সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আগে কোন এলাকার ভোটার ছিলেন, তা স্পষ্ট করতে হবে।
৪. সাবমিট: সমস্ত তথ্য দেওয়ার পর ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করলে একটি একনলেজমেন্ট নম্বর পাওয়া যাবে।
ধোঁয়াশা ও অনিশ্চয়তা:
অনলাইনে আবেদনের রাস্তা প্রশস্ত হলেও বেশ কিছু বিষয়ে এখনও অস্পষ্টতা রয়ে গিয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি যে, আবেদন জমা দেওয়ার পর কতদিনের মধ্যে তার নিষ্পত্তি হবে। এছাড়া জেলাভিত্তিক যে ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গড়া হয়েছে, সেগুলির শারীরিক কার্যালয় বা অফিস ঠিক কোথায় হবে, তা নিয়ে কোনও সঠিক ঠিকানা এখনও দেওয়া হয়নি। ফলে পোর্টালে ফর্ম জমা দিলেও শুনানি বা পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য ভোটারদের অপেক্ষা ও ভোগান্তি এখনই পুরোপুরি মিটছে না।