নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হওয়া মামলার রায়দান এখনও স্থগিত। কিন্তু সেই আইনি প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করেই ফের বড়সড় পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। রবিবার এক নজিরবিহীন বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্যের মোট ৮৩টি ব্লকের বিডিও (BDO) তথা সহকারী রিটার্নিং অফিসার (ARO) এবং ১৫৩ জন পুলিশ আধিকারিককে একযোগে বদলি করল কমিশন। এই তালিকায় আইসি, ওসি থেকে শুরু করে ডিআইবি (DIB) স্তরের আধিকারিকরাও রয়েছেন।
ভোট ঘোষণার দিন থেকেই রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষস্তরে বদলি শুরু করেছিল কমিশন। মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিবকে সরানোর পর একে একে জেলাশাসক ও উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তাদেরও বদল করা হয়েছে। রবিবারের এই গণ-বদলিতে সবচেয়ে বেশি কোপ পড়েছে পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার ওপর। রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রামের দুটি ব্লকের বিডিও-সহ পূর্ব মেদিনীপুরের ১৪ জন বিডিও এবং নন্দীগ্রামের ওসি-কেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জেলাভিত্তিক বিডিও বদলির খতিয়ান:
-
পূর্ব মেদিনীপুর: ১৪ জন (সর্বাধিক)
-
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ১১ জন
-
উত্তর ২৪ পরগনা: ৭ জন
-
বীরভূম: ৬ জন
-
মালদহ: ৬ জন
-
নদীয়া: ৫ জন
-
হুগলি ও মুর্শিদাবাদ: ৪ জন করে
-
দুই বর্ধমান: ৮ জন
-
উত্তরবঙ্গ (কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও দুই দিনাজপুর): মোট ৯ জন
-
জঙ্গলমহল (পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া): ৯ জন
বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, কোনও বিষয় যখন উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকে, তখন সাধারণত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখাই দস্তুর। কিন্তু নির্বাচন কমিশন নিজেদের সাংবিধানিক সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করে আদালতের রায়ের অপেক্ষা না করেই এই গণ-বদলির পথে হাঁটল। বিশেষ করে শাসক দলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত জেলাগুলিতে এই রদবদল নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। কমিশনের যুক্তি, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতেই এই রদবদল অনিবার্য ছিল। তবে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট চলাকালীন প্রশাসনিক খোলনলচে এভাবে বদলে দেওয়ায় নিচুতলায় কাজের গতিপ্রকৃতি কেমন থাকে, সেটাই এখন দেখার।