নিউজ ডেস্ক: পারিবারিক বিবাদের চরম পরিণতি। স্ত্রীকে পিটিয়ে খুনের পর নিজের তিন নাবালক সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করলেন অভিযুক্ত স্বামী। শনিবার রাতে হাওড়ার বালি জুট মিলের শ্রমিক মহল্লায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার নাম সাকিলা খাতুন (৩০)। পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী মহম্মদ জাভেদকে গ্রেপ্তার করে খুনের মামলা রুজু করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বালি জুট মিলের ২০২ নম্বর কোয়ার্টার্সে সাকিলা ও তাঁদের তিন সন্তানকে নিয়ে থাকতেন জাভেদ। প্রতিবেশীদের দাবি, দম্পতির মধ্যে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত এবং তা মাঝেমধ্যেই মারধরের পর্যায়ে পৌঁছাত। শনিবার রাতে কাজ থেকে ফেরার পর ফের তাঁদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। ঝগড়া চলাকালীন মেজাজ হারিয়ে জাভেদ তাঁর স্ত্রীর মাথা সজোরে ঘরের দেওয়ালে ঠুকে দেন বলে অভিযোগ। গুরুতর চোট পেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় সাকিলা মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

সন্তানদের নিয়ে থানায় হাজির ঘাতক বাবা:

ঘটনার সময় দম্পতির তিন নাবালক সন্তান ঘরের বাইরে ছিল। কিছুক্ষণ পর তারা ঘরের ভেতরে ঢুকে মায়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে। বেগতিক বুঝে এবং পুলিশের হাত থেকে বাঁচার কোনও পথ না দেখে, জাভেদ তিন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে সোজা বালি থানায় পৌঁছে যান। সেখানে ডিউটি অফিসারের কাছে নিজের অপরাধ কবুল করে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।

পুলিশের তদন্ত ও প্রতিবেশীদের বয়ান:

খবর পেয়েই বালি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সাকিলা খাতুনের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, জাভেদ সচরাচর শান্ত থাকলেও ইদানীং তাঁদের দাম্পত্য কলহ চরমে উঠেছিল। কিন্তু সেই অশান্তি যে খুনের পর্যায়ে পৌঁছাবে, তা কেউ কল্পনা করতে পারেননি। সন্তানদের সামনেই মায়ের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে গোটা শ্রমিক মহল্লায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে এই খুনের পিছনে অন্য কোনও প্ররোচনা বা কারণ ছিল কি না।

Share on Social Media