নিউজ ডেস্ক: ভোটমুখী বাংলায় এবার কি রেশন কার্ডে সস্তায় চিনি পাওয়াও বন্ধ হতে চলেছে? কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ঘিরে অন্তত তেমনই আশঙ্কা দানা বেঁধেছে। ৩১ মার্চের পর থেকে রেশনে ভরতুকিযুক্ত চিনির জন্য নতুন করে কোনও বরাদ্দ না আসায় উদ্বিগ্ন রেশন ডিলার থেকে শুরু করে সাধারণ উপভোক্তারা। মূলত অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা (AAY) তালিকাভুক্ত পরিবারগুলিই এই সংকটের মুখে।
দেশে প্রায় ৫ কোটির বেশি এবং পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৫৫ লক্ষ অন্ত্যোদয় কার্ডধারী পরিবার রয়েছে। এতকাল পরিবার পিছু মাসে ১ কেজি চিনি সাড়ে ১৩ টাকা দরে দেওয়া হত। খোলাবাজারে চিনির দাম বাড়লেও রেশন দোকানে এই দাম ছিল অপরিবর্তিত। কিন্তু ১ এপ্রিল থেকে এই পরিষেবা বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে এখনও কেন্দ্রের তরফে কোনও সবুজ সংকেত মেলেনি।
কেন এই হঠাৎ অনিশ্চয়তা?
খাদ্য দপ্তর ও বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এর পিছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে:
-
আইনি ফাঁক: জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পে (NFSA) চাল, গম বা মোটা দানাশস্য দেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে বলা থাকলেও চিনির উল্লেখ নেই। এতকাল প্রশাসনিক নির্দেশিকা বলে চিনি দেওয়া হলেও এখন সেই নিয়মকেই ঢাল করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
-
ভরতুকির মেয়াদ: কেন্দ্রীয় চিনি ভরতুকি প্রকল্পের মেয়াদ ৩১ মার্চ শেষ হচ্ছে। নতুন করে এই মেয়াদ বাড়ানোর কোনও বিজ্ঞপ্তি এখনও আসেনি।
-
বৈঠকে ধোঁয়াশা: রাজ্য খাদ্য দপ্তরের সাম্প্রতিক বৈঠকের কার্যবিবরণীতে উল্লেখ রয়েছে যে, ৩১ মার্চের পর চিনি সরবরাহের বিষয়ে কেন্দ্রের তরফে কোনও নিশ্চয়তা মেলেনি।
ডিলারদের উদ্বেগ ও পরবর্তী পদক্ষেপ
রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানিয়েছেন, তাঁরা ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রককে চিঠি দিয়েছেন। নির্বাচনের এই আবহে ৫ কোটি দরিদ্র মানুষের পাত থেকে ‘মিষ্টি’ উধাও হয়ে গেলে তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। খোলাবাজারে যেখানে চিনির কেজি ৪০-৫০ টাকা ছুঁইছুঁই, সেখানে রেশনের চিনি বন্ধ হলে চরম বিপাকে পড়বেন অতি দরিদ্র মানুষগুলি।
এখন দেখার, ভোটের রাজনীতির মাঝেই কেন্দ্র কি শেষ মুহূর্তে এই বরাদ্দ বাড়িয়ে স্বস্তি দেয়, নাকি ৩১ মার্চের পর রেশনের চিনি কেবল অতীত হয়েই থেকে যায়।