নিউজ ডেস্ক: ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই হুমকির ‘সংস্কৃতি’ ফিরছে বাংলার রাজনীতির অলিন্দে। বিরোধীদের ভোট দিলে ফল প্রকাশের পর তাঁদের ওপর দিয়ে ‘স্টিম রোলার’ চালানোর নিদান দিয়ে এবার শ্রীঘরে ঠাঁই হলো এক দাপুটে তৃণমূল নেতার। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে হাফিজুল মোল্লাকে। ধৃত হাফিজুল ক্যানিং পূর্ব বিধানসভার দেউলি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হিসেবে কর্মরত।

প্রকাশ্য সভায় ‘স্টিম রোলার’ আস্ফালন:

ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার। ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল প্রার্থী বাহারুল ইসলামের সমর্থনে দেউলি এলাকায় একটি নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে মেজাজ হারান পঞ্চায়েত প্রধান হাফিজুল মোল্লা। দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করতে গিয়ে তিনি সরাসরি ভোটারদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বসেন। হাফিজুল বলেন, “অনেকে দলের মধ্যে থেকে বিশ্বাসঘাতকতা করার চেষ্টা করছেন। যাঁরা বিশ্বাসঘাতকতা করে বিরোধীদের ভোট দেবেন, ৪ তারিখ ভোটের ফলাফল ঘোষণার পরেই তাঁদের ওপর দিয়ে স্টিম রোলার চালানো হবে।”

ভাইরাল ভিডিও ও আইনি তৎপরতা:

তৃণমূল নেতার এই বিতর্কিত মন্তব্যের একটি ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় (যদিও ওই ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি)। এই ভিডিও-টিকে হাতিয়ার করেই সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হন ক্যানিং পূর্বের আইএসএফ (ISF) প্রার্থী আরাবুল ইসলাম। নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গ এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগে হাফিজুলের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় বিরোধীরা।

অভিযোগ পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। কমিশনের নির্দেশে শনিবার জীবনতলা থানার পুলিশ অভিযুক্ত পঞ্চায়েত প্রধানকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ভোটের ময়দানে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো বা হুমকি দেওয়ার ঘটনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ধৃত হাফিজুল মোল্লার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাঁকে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। নির্বাচনের আগে এই গ্রেপ্তারির ঘটনায় ক্যানিং এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।

Share on Social Media