নিউজ ডেস্ক: ছুটির সকালে বড়সড় বিপত্তি শিল্পশহর দুর্গাপুরে। সিটি সেন্টার এলাকার পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু সরণিতে পাইপড ন্যাচরাল গ্যাস বা পিএনজি (PNG) লাইনে ফাটল দেখা দেওয়ায় তীব্র আতঙ্ক ছড়াল এলাকায়। রবিবার সাতসকালে পাইপ ফেটে হু হু করে গ্যাস বেরোতে শুরু করে। গ্যাসের চাপে রাস্তার ওপর বরফের মতো সাদা কণা ছড়িয়ে পড়ে, যা দেখে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সিটি সেন্টার ফাঁড়ির পুলিশ এবং দমকলের ইঞ্জিন। বড়সড় দুর্ঘটনা এড়াতে ওই রাস্তায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থার আধিকারিকরা জানিয়েছেন, যান্ত্রিক গোলযোগের জেরে এই ছিদ্র বা ফাটল তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই লাইনের গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সিটি সেন্টার এলাকার কয়েকশ রান্নাঘরে। রবিবাসরীয় সকালে অনেকের বাড়িতেই উনুন জ্বলেনি। স্থানীয় বাসিন্দা মনোজ সিং বলেন, “সকালে চায়ের কাজ হলেও কিছুক্ষণ পর দেখি গ্যাস জ্বলছে না। হেল্পলাইনে ফোন করে জানলাম মেরামতির জন্য লাইন বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্তত ৩ ঘণ্টা সময় লাগবে বলে জানানো হয়েছে।”
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘এনার্জি সিকিউরিটি’ প্রকল্পের অধীনে দুর্গাপুরের বহু বাড়িতেই এখন মাটির তলা দিয়ে আসা পাইপলাইনের মাধ্যমে রান্নার গ্যাস পৌঁছে দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, যাঁদের বাড়িতে পিএনজি (PNG) সংযোগ রয়েছে, তাঁদের এলপিজি (LPG) সিলিন্ডার ফেরত দিতে হয়েছে। ফলে হঠাৎ গ্যাস পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ায় বিকল্প কোনও উপায় না থাকায় চরম সমস্যায় পড়েছেন গৃহিণীরা। অনেকেরই অভিযোগ, শনিবার রাত থেকেই এলাকায় গ্যাসের হালকা গন্ধ আসছিল, কিন্তু বিষয়টি যে এতটা গুরুতর হবে তা কেউ বুঝতে পারেননি।
পাইপলাইনের মেরামতির কাজে আসা কর্মী ফিরোজ খানের দাবি, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে কেউ মাটি খুঁড়তে গিয়ে বা অন্য কোনও কেবলের কাজ করতে গিয়ে পাইপটি ফাটিয়ে দিয়েছে। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা লাইন বন্ধ করে দিয়েছি।” যদিও সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এটি ‘ন্যাচরাল গ্যাস’ হওয়ায় বড়সড় বিপদের আশঙ্কা নেই, তবুও সাবধানতা বজায় রাখতে এলাকাটি পুলিশ ঘিরে রেখেছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামতির কাজ চলছে এবং দুপুরের মধ্যেই পরিষেবা স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সংস্থাটি।