নিউজ ডেস্ক: মালদহের মোথাবাড়ি কাণ্ডে ধৃত আইনজীবী মোফাক্কারুল ইসলামের মোবাইল কল ডিটেইলস খতিয়ে দেখে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেলেন ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)-র আধিকারিকরা। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ঘটনার ঠিক আগে এবং পরে ওই আইনজীবীর ফোনে একাধিক সন্দেহজনক ফোন এসেছিল, যার উৎস ছিল বিদেশের মাটি। অন্তত দুটি দেশের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য হাতে এসেছে এজেন্সির। এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে শুধু ওই আইনজীবী নন, বরং আরও বড় কোনও ‘মাথা’ কাজ করছে বলেই নিশ্চিত গোয়েন্দারা।
বিদেশের কল ও ষড়যন্ত্রের ছক:
এনআইএ-র গোয়েন্দারা মোফাক্কারুলের ফোনের কল লিস্ট পরীক্ষা করে দেখেছেন, বিডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ এবং বিচারকদের ওপর হামলার ঘটনার সময় কেন এত ঘনঘন বিদেশ থেকে ফোন এসেছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে পরিকল্পিতভাবে উসকে দিয়ে হিংসার রূপ দেওয়ার নির্দেশ হয়তো বাইর থেকেই আসছিল। ম্যাজিস্ট্রেটদের গাড়ি ভাঙচুর এবং বিচারকদের দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার যে নীল নকশা তৈরি হয়েছিল, তার প্রতিটি ধাপে কারা নির্দেশ দিচ্ছিল, এখন তা জানাই প্রধান লক্ষ্য।
এনআইএ আদালতে ১২টি মামলা:
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার গ্রহণ করার পর ইতিমধ্যেই ১২টি মামলা রুজু করেছে কেন্দ্রীয় এই সংস্থা। খুনের চেষ্টা, সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা দেওয়া, ষড়যন্ত্র এবং মারধর-সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এনআইএ-র বিশেষ আদালতে এফআইআর (FIR)-এর কপি জমা দেওয়া হয়েছে। এজেন্সির আইনজীবী আদালতে সওয়াল করেন যে, বিচারকদের ওপর এই হামলা এক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।
১৬ এপ্রিল পরবর্তী পদক্ষেপ:
ঘটনায় ধৃত ৪৭ জন অভিযুক্ত বর্তমানে জেলা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। আদালত মালদহ জেলা পুলিশকে অবিলম্বে কেস ডায়েরি এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ১৬ এপ্রিল সব অভিযুক্তকে এনআইএ আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই দিনই ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে কেন্দ্রীয় সংস্থা। পাশাপাশি, মোফাক্কারুলের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা ব্যক্তিদেরও জিজ্ঞাসাবাদের তোড়জোড় শুরু হয়েছে, যাতে এই কাণ্ডের আর্থিক লেনদেনের উৎসটি স্পষ্টভাবে ধরা যায়।