নিউজ ডেস্ক: লাইনে তখন এসে দাঁড়িয়েছে শিয়ালদহগামী লোকাল ট্রেন। আর পাঁচটা দিনের মতো যাত্রীদের হুড়োহুড়ি নেই, বরং এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা। ট্রেনের চাকার সামনে গঙ্গাজল, ফুল আর ফলের থালা নিয়ে বসে পড়েছেন এক বৃদ্ধা। ট্রেনের বাফার জুড়ে পরিয়ে দেওয়া হলো ফুলের মালা, বাঁধা হলো কলাগাছ। উত্তর ২৪ পরগনার কদম্বগাছি স্টেশনে এ এক অন্যরকম পুজোর ছবি। লোকাল ট্রেনকেই ঈশ্বর জ্ঞানে আরাধনা করছেন রাধারানি গোলদার।
এই পুজোর নেপথ্যে রয়েছে প্রায় দুই দশক আগের এক হাড়হিম করা স্মৃতি। আঠারো বছর আগে এই রেল লাইনেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন রাধারানিদেবীর ছেলে স্বপন গোলদার। সেই যাত্রায় একটি পা খোয়া গেলেও অলৌকিকভাবে প্রাণ বেঁচে গিয়েছিল তাঁর। মায়ের বিশ্বাস, স্বয়ং ‘ট্রেন-দেবতা’ই সেদিন তাঁর কোল খালি হতে দেননি। সেই কৃতজ্ঞতা থেকেই প্রতি বছর অক্ষয় তৃতীয়ায় কদম্বগাছি স্টেশনে হাজির হন তিনি। ট্রেনের চাকায় গঙ্গাজল ছিটিয়ে, ধূপ-দীপ জ্বেলে চলে আরতি।
রাধারানির এই ব্যক্তিগত বিশ্বাস এখন এলাকার অলিখিত প্রথায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই পুজো শুরু হওয়ার পর থেকে ওই তল্লাটে বড় কোনও রেল দুর্ঘটনা ঘটেনি। তাই এখন গ্রামের অন্য মহিলারাও এই আয়োজনে হাত মেলান। কেবল নিজের ছেলের মঙ্গল নয়, ট্রেনের হাজার হাজার যাত্রীর নিরাপদ যাত্রার কামনায় প্রার্থনা করেন রাধারানি। কয়েক মিনিটের জন্য থমকে যাওয়া ট্রেনের কামরা থেকে অবাক চোখে যাত্রীরা দেখেন ভক্তি আর আবেগের এই বিরল মেলবন্ধন।