নিউজ ডেস্ক: ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই উত্তরবঙ্গ জুড়ে যেন অকাল ‘ড্রাই ডে’-র ছায়া। রবিবার সন্ধ্যার পর থেকেই রায়গঞ্জ, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি থেকে মালদহ— সর্বত্রই আবগারি দপ্তর ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তালা ঝুলেছে মদের দোকানে। আচমকা এই সিদ্ধান্তে মাথায় হাত সুরাপ্রেমীদের একাংশের। উৎসবের মেজাজে ভাটা পড়লেও কমিশনের এই কড়াকড়িতে খুশি বাড়ির মহিলারা। তাঁদের মতে, এতে ভোটের সময় অশান্তি কিছুটা কমবে।
রায়গঞ্জের বাসিন্দা সমীর আইচের অভিজ্ঞতা যেন অনেকেরই প্রতিচ্ছবি। কাজ সেরে সন্ধ্যার আড্ডায় এক পেগ শেষ করতেই বারের ম্যানেজার জানালেন, রাত ন’টার মধ্যে ঝাঁপ ফেলতে হবে। পরে বাইরে বেরিয়ে দেখলেন অফশপও বন্ধ। একই ছবি শিলিগুড়িতেও। উত্তরবঙ্গের এই প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পাব ও বারের সংখ্যা সর্বাধিক, অথচ রবিবারের পর থেকেই সেখানে শ্মশানের নিস্তব্ধতা। অভিযোগ উঠেছে, এই সুযোগে কালোবাজারিরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ৫০০ টাকার মদ কোথাও এক হাজার, কোথাও বা দেড় হাজারেও বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ।
কোচবিহারে আবার অন্য দুশ্চিন্তা দানা বেঁধেছে। জেলা আবগারি দপ্তর সূত্রে খবর, ৮০টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক কোটি টাকার ব্যবসা হয়। এই চার দিনের ছুটিতে বিপুল সরকারি রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা করছেন মালিকরা। মালদহ ও বালুরঘাটেও ছবিটা আলাদা নয়। অনেক সুরাপ্রেমীরই আক্ষেপ, “আগে জানা থাকলে বাড়িতে স্টক করে রাখা যেত।” যদিও জলপাইগুড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উজ্জ্বল ঘোষ জানিয়েছেন, ভোটের সময় বেআইনি মদ বিক্রি রুখতে পুলিশ ও আবগারি দপ্তরের সাতটি বিশেষ দল নজরদারি চালাচ্ছে। এর মাঝেও বালুরঘাটে রাত ১১টা পর্যন্ত দোকান খোলা থাকার অভিযোগ ওঠায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।