নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্ত চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে কার্যত নজিরবিহীন এবং কড়া পর্যবেক্ষণ শোনাল সুপ্রিম কোর্ট। আইপ্যাক (I-PAC) মামলার শুনানিতে বুধবার বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এভাবে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তের জায়গায় ঢুকে পড়তে পারেন না। এর ফলে দেশের গোটা গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ: বুধবার বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর দায়ের করা মামলার শুনানি ছিল। শুনানিতে বিচারপতি মিশ্র পর্যবেক্ষণে বলেন, “কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এভাবে তদন্তের জায়গায় ঢুকে পড়তে পারেন না। আপনি ড. বিআর আম্বেদকরের লেখার উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তাঁরাও হয়তো কল্পনা করতে পারেননি যে ক্ষমতাসীন একজন মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্তে বাধা দেবেন।” আদালত আরও যোগ করে, “এটা কোনও রাম বনাম শ্যামের সাধারণ মামলা বা কেন্দ্র বনাম রাজ্যের লড়াই নয়; এটি অত্যন্ত ব্যতিক্রমী এবং সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই আদালতকে এগোতে হচ্ছে।”
পুরানো ঘটনার স্মৃতিচারণ: শুনানি চলাকালীন বিচারপতি মিশ্রের মুখে উঠে আসে পশ্চিমবঙ্গের মোথাবাড়ির ঘটনার প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, “এর আগে আমরা বাংলার এসআইআর (SIR) মামলায় দেখেছি কীভাবে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের আটকে রাখা হয়েছিল। সার্বিক আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি দেখে আমরা চোখ ঘুরিয়ে থাকতে পারি না।”
আইনি লড়াই ও গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন: এদিন রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি এবং মেনকা গুরুস্বামী সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারায় ইডির মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সিংভির দাবি, সংবিধানের নির্দিষ্ট কিছু অনুচ্ছেদ কেবল ব্যক্তির মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য, কোনও সংস্থার জন্য নয়। ইডি নিজে রাষ্ট্রের শক্তিশালী সংস্থা হওয়ায় তারা আলাদা কোনও মৌলিক অধিকার দাবি করতে পারে না। অন্যদিকে, মেনকা গুরুস্বামী ১৯৪৮ সালের সংবিধান সভার বিতর্কের উল্লেখ করে জানান, নাগরিকদের রাষ্ট্রের হাত থেকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ ব্যবহৃত হয়, সরকার নিজের বিরুদ্ধে এটি ব্যবহার করতে পারে না।
কেন্দ্রের পাল্টা দাবি: কেন্দ্রের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দাবি করেন, মামলা রাজ্যের পক্ষে যাচ্ছে না বুঝেই অতীতে নানা কারণ দেখিয়ে এটি খারিজের চেষ্টা চলছে। ইডির এক্তিয়ার এবং মৌলিক অধিকারের সীমা নিয়ে তিনি এদিন একাধিক সওয়াল পেশ করেন। আপাতত এই মামলাটি শুনানির জন্য আদালত গ্রহণ করবে কি না, তা নিয়েই আইনি লড়াই চলছে। আগামী বৃহস্পতিবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা।