নিউজ ডেস্ক: আজ, বৃহস্পতিবার রাজ্যের প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচন। ভোটকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গ জুড়ে রাজনৈতিক পারদ যেমন চড়ছে, তেমনই সম্ভাব্য অশান্তি বা সংঘর্ষের আশঙ্কায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করল উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগকে ‘হাই অ্যালার্ট’-এ রাখা হয়েছে। তবে পরিকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও চিকিৎসকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে ব্লাড ব্যাঙ্কের শূন্য ভাণ্ডার।
হাসপাতালে বিশেষ প্রস্তুতি: উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিন্সিপাল ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন বা সরকারের তরফ থেকে আলাদা কোনও নির্দেশিকা না এলেও, তাঁরা নিজেদের উদ্যোগে সমস্ত প্রস্তুতি সেরে রেখেছেন। ট্রমা কেয়ার ইউনিট থেকে শুরু করে এমার্জেন্সি বিভাগ— সর্বত্রই চিকিৎসক, নার্স এবং পর্যাপ্ত জীবনদায়ী ওষুধের জোগান নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যদপ্তরের নির্দেশ মেনে ভোটের সময় চিকিৎসকদের সমস্ত ছুটি আগেই বাতিল করা হয়েছে। ফলে যে কোনও বড়সড় দুর্ঘটনা বা সংঘর্ষের খবর এলে দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
রক্তের হাহাকারে দুশ্চিন্তা: হাসপাতাল প্রস্তুত থাকলেও বড় উদ্বেগের নাম রক্তের আকাল। উত্তরবঙ্গ রিজিওনাল ব্লাড সেন্টারের ডিরেক্টর ডাঃ মৃদুল দাস জানিয়েছেন, এসআইআর (SIR) এবং নির্বাচনের ব্যস্ততায় গত কয়েক মাস ধরে রক্তদান শিবির একপ্রকার বন্ধ। ফলে সরকারি ব্লাড সেন্টারে রক্তের ভাঁড়ার এখন তলানিতে। কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রক্তদান করলেও, সেই রক্ত সরকারি ব্যবস্থার বদলে বেসরকারি কেন্দ্রে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। ভোটের দিন যদি বড় কোনও সংঘর্ষ ঘটে এবং রক্তক্ষরণজনিত জখম রোগী আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে আসেন, তবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
যুবসমাজের কাছে আর্জি: অতীতের রেল দুর্ঘটনা বা পাহাড়ের ধসের সময় যেভাবে উত্তরবঙ্গের যুবসমাজ রক্তদান করে মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মৃদুলবাবু। তাঁর আবেদন, আপদকালীন পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও তরুণ প্রজন্ম যেন দ্রুত রক্তদানে এগিয়ে আসেন। স্বাস্থ্যদপ্তরের মতে, রাজনৈতিক লড়াইয়ের মাঝখানে রক্তের অভাবে যাতে কোনও প্রাণ না যায়, তা নিশ্চিত করাই এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।