নিউজ ডেস্ক: একদিকে ঘন বনাঞ্চল, অন্যদিকে দুর্গম পাহাড়ি চড়াই। জিপ যাওয়ার রাস্তা নেই, নেই কোনও চেনা যাতায়াতের মাধ্যম। ভোটযুদ্ধের সেই পাহাড়-প্রমাণ চ্যালেঞ্জ সামলাতে নির্বাচন দু’দিন আগেই বুথের পথে পাড়ি দিলেন দার্জিলিংয়ের একদল ভোটকর্মী। মঙ্গলবার শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকা থেকে জেলা প্রশাসনের এই বিশেষ দল রওনা হয়েছে দার্জিলিং-পুলবাজার ব্লকের বনাঞ্চল ঘেরা একটি বুথের উদ্দেশ্যে। সুষ্ঠু ভোটদান নিশ্চিত করতেই কমিশনের এই অগ্রিম তৎপরতা।
দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক হরিশংকর পানিক্কর জানান, জেলায় আগের তুলনায় দুর্গম বুথের সংখ্যা কমলেও সামানদেন ফরেস্ট প্রাথমিক স্কুলের ৪ নম্বর বুথটি এখনও এক দুর্গম চ্যালেঞ্জ। সংশ্লিষ্ট বুথে পৌঁছতে হলে রামভাম থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার পাথুরে ও চড়াই রাস্তা হেঁটে পার করতে হয়। যানবাহন চলাচলের উপায় না থাকায় আজ সকালেই ভোটকর্মীরা রওনা হয়েছেন। আজ রাতে রামভামের একটি শিক্ষা কেন্দ্রে বিরতি নিয়ে বুধবার সকালে পদব্রজে তাঁরা পৌঁছবেন জঙ্গলের মাঝখানের ওই ভোটকেন্দ্রে। প্রায় ২০০ জন ভোটারের এই বুথটিতে যাতে কোনওভাবেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত না হয়, সেই দিকে কড়া নজর রাখছে প্রশাসন।
অন্যদিকে, এবার দার্জিলিং ও শিলিগুড়ির পাহাড়-সমতল মিলিয়ে নারীশক্তির জয়গান শোনা যাবে প্রায় দেড়শোটি বুথে। সম্পূর্ণ মহিলা পরিচালিত এই বুথগুলিকে ‘পিঙ্ক বুথ’ হিসেবে আকর্ষণীয় করে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে কমিশন। শিলিগুড়িতে ৮৫টি, মাটিগাড়া-নকশালবাড়িতে ২৬টি এবং কার্শিয়াং ও ফাঁসিদেওয়া মিলিয়ে মোট ১৫০টি বুথে প্রিসাইডিং অফিসার থেকে সমস্ত কর্মীরাই হবেন মহিলা। ভোটারদের উৎসাহিত করতে এই বুথগুলি সাজানো হবে গোলাপি বেলুন ও বর্ণময় কাটআউট দিয়ে। একদিকে দুর্গম পাহাড় জয়ের জেদ, অন্যদিকে মহিলা শক্তির অংশগ্রহণ— দুই মিলিয়েই দার্জিলিংয়ের ভোটচিত্র এবার এক অনন্য রূপ নিয়েছে।