নিউজ ডেস্ক: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক তরুণীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্তের রেশ এখনও কাটেনি। মূল অভিযুক্তের সাজা ঘোষণা হলেও ষড়যন্ত্রের জাল কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত জারি রেখেছে সিবিআই। বৃহস্পতিবার শিয়ালদহ এসিজেএম আদালতে মামলার দশম স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। নিহতের পরিবারের দাবি মেনে নতুন করে ৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও, সাজাপ্রাপ্ত সঞ্জয় রায়কে কেন ফের জেরা করা হচ্ছে না— তা নিয়ে এদিন আদালতে প্রশ্ন তুললেন পরিবারের আইনজীবীরা।
নতুন ৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ: এদিন শিয়ালদহের এসিজেএম সুলতান মামুদের এজলাসে তিন পাতার রিপোর্ট জমা দেন সিবিআই-এর আইনজীবী পার্থসারথি দত্ত। তিনি জানান, কলকাতা হাইকোর্টে নিহতের পরিবার যে আবেদন করেছিল, সেই অনুসারে নতুন করে ৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তাঁদের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। তবে তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে খুব বেশি তথ্য খোলসা করেনি কেন্দ্রীয় এজেন্সি।
সঞ্জয় রায়কে নিয়ে প্রশ্ন: পাল্টা নিহতের পরিবারের আইনজীবী রাজদীপ হালদার ও অমর্ত্য দে অভিযোগ করেন, এই নৃশংস ঘটনার পিছনে বড়সড় ষড়যন্ত্র রয়েছে, যা সঞ্জয় রায়ের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সিসিটিভি ফুটেজে সঞ্জয়কে মাত্র ১৫ মিনিট দেখা গিয়েছে, যা অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। তাঁদের দাবি, হাইকোর্টের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও কেন সঞ্জয়কে ফের জেরা করা হচ্ছে না? রাজদীপবাবু এদিন সওয়াল করেন, “সঞ্জয়কে কার্যত ঠান্ডা ঘরে রাখা হয়েছে। দেড় বছর হয়ে গেলেও এখনও সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা পড়েনি। সঞ্জয়কে জিজ্ঞাসাবাদে বাধা কোথায়?”
পরিবারের নরম সুর ও বিচারপ্রার্থনা: পূর্ববর্তী শুনানিগুলির তুলনায় এদিন সিবিআই-এর ভূমিকা নিয়ে নিহতের পরিবারের সুর ছিল কিছুটা নরম। এজলাসে উপস্থিত নিহতের মা–বাবা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “স্টেটাস রিপোর্ট আইনজীবীরা খতিয়ে দেখছেন। হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই সিবিআই কাজ করছে। আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাইছি।” আদালত সমস্ত পক্ষ শোনার পর সিবিআই-কে নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ৫ জুন তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতি নিয়ে ফের রিপোর্ট জমা দিতে হবে। ষড়যন্ত্রের শিকড় কত গভীরে, তা জানতেই এখন ৫ জুনের দিকে তাকিয়ে ওয়াকিবহাল মহল।