নিউজ ডেস্ক: উৎসবের মেজাজ নিমেষেই বদলে গেল চরম তিক্ততায়। বউভাতের সকালে রান্নার তোড়জোড় শুরু হতেই চক্ষু চড়কগাছ পরিবারের সদস্যদের। অভিযোগ, নিমন্ত্রিতদের জন্য ভোজের রান্নায় যে সমস্ত মুদি সামগ্রী কেনা হয়েছিল, তার প্রায় সবকটিই মেয়াদ উত্তীর্ণ! এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর থানার সুন্দরপুর গ্রামে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। শেষ পর্যন্ত পুলিশের হস্তক্ষেপে দোকানদার সামগ্রী বদলে দিতে বাধ্য হওয়ায় রক্ষা পেল অনুষ্ঠান।
বিপত্তি ও দোকানদারের সাফাই: স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপালনগর ২ নম্বর পঞ্চায়েতের সুন্দরপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহিন মণ্ডলের বাড়িতে বৃহস্পতিবার বউভাতের অনুষ্ঠান ছিল। সেই উপলক্ষে স্থানীয় একটি মুদি দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী কিনেছিলেন তিনি। সকালে রান্নার জন্য প্যাকেট খুলতেই দেখা যায়, বেশিরভাগ জিনিসই নষ্ট এবং মেয়াদের সময়সীমা পেরিয়ে গিয়েছে। ক্ষুব্ধ পরিবার দোকানে গিয়ে অভিযোগ জানালে হিতে বিপরীত হয়। দোকান কর্তৃপক্ষ দায় অস্বীকার করে উল্টে কোম্পানির ওপর দোষ চাপান এবং জিনিস পাল্টে দিতে অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ।
থানায় অভিযোগ ও পুলিশের পদক্ষেপ: পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শাহিন মণ্ডল গোপালনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ামাত্রই সক্রিয় হয় পুলিশ। অভিযুক্ত দোকানদার এবং তাঁর ছেলেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পুলিশের কড়া মনোভাব দেখে শেষ পর্যন্ত নতিস্বীকার করেন দোকানদার। তিনি সমস্ত খারাপ জিনিস বদলে দেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তুলে নেওয়া হয়।
তদন্তে প্রশাসন: অনুষ্ঠান যাতে ভেস্তে না যায়, তার জন্য তড়িঘড়ি অন্য একটি দোকান থেকে নতুন করে সামগ্রী কিনে রান্নার কাজ শুরু করা হয়। শেষ পর্যন্ত হাসিমুখেই সম্পন্ন হয়েছে বউভাতের ভোজ। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র জনরোষ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বহু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি লাভের আশায় মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য মজুত রেখে সাধারণ মানুষকে ঠকাচ্ছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ধরনের ঘটনার খবর পেলেই কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত নজরদারি চালানোর আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।