নিউজ ডেস্ক: তামাক কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজের অভিযোগে রণক্ষেত্র হয়ে উঠল মেখলিগঞ্জ ব্লকের ধাপড়াহাট। শনিবার সকালে ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক সঞ্জীব পাণ্ডেকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান কয়েকশো ক্ষুব্ধ তামাক চাষি। অভিযোগ, তোলাবাজির দাপটে বাইরের পাইকাররা মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না কৃষকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হয় মহকুমাশাসক ও বিশাল পুলিশ বাহিনীকে।
পাইকার তাড়ানোর অভিযোগ: চাষিদের অভিযোগ, ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক সঞ্জীব পাণ্ডে ও তাঁর অনুগামীরা বাইরের তামাক পাইকারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। এই ‘তোলাবাজি’র জেরে বহু বড় পাইকার হাটে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে প্রতিযোগিতার অভাবে স্থানীয় কিছু পাইকার সিন্ডিকেট তৈরি করে নামমাত্র দামে তামাক কিনছে। এর জেরে কয়েক মাস ধরে চাষিরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এদিন সকালে পরিস্থিতি এমন চরমে পৌঁছায় যে, বহু কৃষক তাঁদের তামাক বিক্রি না করেই ফিরে যেতে বাধ্য হন।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নতুন নিয়ম: বিক্ষোভের খবর পেয়ে মেখলিগঞ্জের মহকুমাশাসক অতনুকুমার মণ্ডল ও কুচলিবাড়ি থানার ওসি বিশ্বজিৎ মল্লিক বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। মহকুমাশাসক বিক্ষুব্ধ কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। অশান্তি এড়াতে প্রশাসন ঘোষণা করেছে, এখন থেকে ভোরবেলার বদলে সকাল ৮টা থেকে হাট শুরু হবে। মহকুমাশাসক জানান, “চাষিদের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অস্বীকার ও পরবর্তী পদক্ষেপ: তোলাবাজির সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সম্পাদক সঞ্জীব পাণ্ডে। তাঁর দাবি, বাইরের পাইকারদের ওপর কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে প্রশাসনের আশ্বাসে আপাতত আন্দোলন তুলে নিলেও কৃষকরা পিছু হঠতে নারাজ। প্রশান্ত রায় বসুনিয়া, উকিল রায়দের মতো স্থানীয় চাষিরা জানিয়েছেন, শীঘ্রই তাঁরা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন এবং স্বচ্ছভাবে তামাক কেনাবেচা সুনিশ্চিত না হলে ফের বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন।