নিউজ ডেস্ক: উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে সুদূর আমেরিকায় পাড়ি দিয়েছিলেন বাংলাদেশের দুই মেধাবী তরুণ-তরুণী। লক্ষ্য ছিল গবেষণা শেষে একসঙ্গে সংসার পাতার। কিন্তু ফ্লোরিডার ট্যাম্পা বে-র নোনা জল সেই সব রঙিন স্বপ্নে অকাল ইতি টানল। গত দশ দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর শুক্রবার সকালে উদ্ধার হলো জামিল লিমনের (২৭) নিথর দেহ। তাঁর প্রেমিকা নাহিদা বৃষ্টি এখনও নিখোঁজ থাকলেও পুলিশের অনুমান, তাঁকেও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় জামিলের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেফতার করেছে ফ্লোরিডা পুলিশ।
ক্যাম্পাস থেকে নিখোঁজ ও রহস্যমৃত্যু: ফ্লোরিডার পুলিশ ও বাংলাদেশে নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, জামিল লিমন ২০২৪ সালে আমেরিকায় গিয়ে সাউথ ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটিতে (USF) ভর্তি হন। তিনি ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান এবং পলিসি নিয়ে গবেষণা করছিলেন। নাহিদা বৃষ্টি পিএইচডি করছিলেন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে, তিনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রী। গত ১৬ এপ্রিল জামিলকে শেষবার বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে হেঁটে যেতে দেখা গিয়েছিল। তার এক ঘণ্টা পর নাহিদাকেও ক্যাম্পাসের সায়েন্স বিল্ডিংয়ে দেখা যায়। এরপর থেকেই দু’জন কর্পূরের মতো উবে যান।
SWAT টিম নামিয়ে ধৃত রুমমেট: বন্ধুদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে শুক্রবার ট্যাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে জামিলের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নাহিদার খোঁজে এখনও তল্লাশি চলছে। এই ঘটনায় জামিলের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহকে গ্রেফতার করতে পুলিশকে রীতিমতো ঘাম ঝরাতে হয়েছে। ঘটনার দিন হিশামের বাড়িতে গার্হস্থ্য হিংসার তদন্তে গিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু বাড়ির চারদিকে ব্যারিকেড দিয়ে SWAT টিম ও ক্রাইসিস নেগোশিয়েটরদের রুখে দেন হিশাম। পরে নেগোশিয়েটরদের আশ্বাসে খালি গায়ে, তোয়ালে জড়িয়ে বেরিয়ে এসে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। হিশামের বিরুদ্ধে খুন, মৃতদেহ গায়েব এবং প্রমাণ নষ্টের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযুক্তের ডার্ক প্রোফাইল: আদালতের নথি অনুযায়ী, ইতিপূর্বেও নিজের মা ও ভাইয়ের ওপর হামলার অভিযোগে দু’বার গ্রেফতার হয়েছিলেন হিশাম। তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই ম্যানেজমেন্টের স্নাতক। এই নৃশংস ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা বাংলাদেশ ও সাউথ ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস। নাহিদা বৃষ্টির মৃত্যুর খবর এখনও নিশ্চিত না হলেও, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহম্মদ ইসমাইল বলেন, ‘অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী। আমরা শোকাহত।’ জামিলের ভাই জানিয়েছেন, তাঁরা সংসার পাতার পরিকল্পনা করেছিলেন। ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানতে চান তাঁরা। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৮ এপ্রিল।