নিউজ ডেস্ক: গ্ল্যামার দুনিয়ার চাকচিক্য নেই, নেই কোনও বিলাসবহুল পার্টি। শনিবার ৩৯ বছরে পা দিলেন বলিউডের ‘সুরসম্রাট’ অরিজিৎ সিং। তবে জন্মদিন পালনের ধাঁচটা ছিল একেবারে সাধারণ পাঁচটা বাড়ির মতো। মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের বাড়িতে মেঝেতে বাবু হয়ে বসে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় আর ঘরোয়া খাওয়া-দাওয়ার মধ্য দিয়েই কাটল তাঁর বিশেষ দিনটি। মাটির কাছাকাছি থাকা যে একটা সহজাত শিল্প, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন এই বিশ্বখ্যাত গায়ক।
ঘরোয়া আড্ডায় জন্মদিনের রাত: রাত জাগা অভ্যাস অরিজিতের। রাতভর গান, রেওয়াজ আর রেকর্ডিং নিয়ে কাটলেও জন্মদিনের রাতটা ছিল একান্তই কাছের মানুষদের জন্য। অরিজিতের বাবা সুরিন্দর সিং জানালেন, ছেলে বরাবরই অনাড়ম্বর জীবন পছন্দ করে। প্রতি বছরের মতো এবারও রাতে তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েক জন বন্ধু বাড়িতে এসেছিলেন। সেখানেই কেক কাটা হয়। সুরিন্দরবাবুর কথায়, “বৌমা (অরিজিতের স্ত্রী) সবার জন্য বিরিয়ানি আর চিকেন চাপ রান্না করেছিল।” তবে অরিজিতের নিজের পছন্দ কিন্তু একেবারেই সাদামাটা ডাল-ভাত আর আলু ভাজা।
ভোটের ময়দান থেকে রান্নাঘর: প্রথম দফার নির্বাচনে সাধারণ মানুষের মতোই লাইনে দাঁড়িয়ে স্ত্রীকে নিয়ে ভোট দিয়েছেন অরিজিৎ। বুথ থেকে বেরোনোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সেই চেনা সপ্রতিভ হাসি হেসে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, নিজেকে কখনওই ভিআইপি ভাবেন না তিনি। সঙ্গীত প্রতিভা ছাড়াও অরিজিৎ যে একজন দক্ষ রাঁধুনি, সে কথা জানালেন তাঁর বাবা। মায়ের কাছ থেকেই শিখেছেন মাংস রান্নার কৌশল। নিজের এলাকায় মাত্র ৩০-৪০ টাকায় সাধারণ মানুষকে অন্ন সংস্থানের জন্য একটি রেস্তোরাঁও খুলেছেন তিনি। মানুষের সেবার মধ্যেই আসল আনন্দ খুঁজে পান এই শিল্পী।
শিক্ষকের আশীর্বাদ ও জিয়াগঞ্জের টান: জিয়াগঞ্জের রাজা বিজয় সিংহ মন্দির স্কুলে পড়াশোনা করেছেন অরিজিৎ। তাঁর শিক্ষক অরুণ কুমার দাস এখনও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ছাত্রের কথা বলতে গিয়ে। তিনি বলেন, “এখনও রাস্তায় দেখা হলে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে। জন্মদিনে আশীর্বাদ করি, ও আরও বড় হোক।” প্লেব্যাক সিঙ্গিং থেকে সাময়িক বিরতি নিলেও শিকড়ের টান যে একটুও আলগা হয়নি, তা জিয়াগঞ্জের অলিগলিতে অরিজিতের ঘোরাফেরা দেখলেই স্পষ্ট হয়ে যায়। খ্যাতির শিখরে পৌঁছেও এই জিয়াগঞ্জের মাটি, আলো আর আকাশেই মুক্তি খোঁজেন ভারতের হার্টথ্রব গায়ক।