নিউজ ডেস্ক: ভোটের ডিউটিতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া সেই স্কুল শিক্ষকের অবশেষে হদিস মিলল। শনিবার বিকেলে ইটাহারের পতিরাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মহিনগর এলাকায় জামাইবাবুর বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় ভোটকর্মী সুফল মুর্মুকে (৪৭)। চারদিন ধরে তিনি কোথায় ছিলেন বা কীভাবে সেখানে পৌঁছালেন, তা নিয়ে এখনও ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। নিখোঁজ শিক্ষকের হদিস মেলায় পরিবারে স্বস্তি ফিরলেও তাঁর অসংলগ্ন বয়ানে ধন্দে রয়েছেন তদন্তকারীরা।
ডিসিআরসি থেকেই উধাও: ইটাহারের উত্তর জামালপুরের বাসিন্দা সুফলবাবু পেশায় দুর্লভপুর প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। গত ২২ এপ্রিল বিধানসভা নির্বাচনের ডিউটির জন্য সেকেন্ড পোলিং অফিসার হিসেবে ইসলামপুরের সুভাষনগর জুনিয়র হাইস্কুলের ১০৮ নম্বর বুথে তাঁর নাম ছিল। পরিবারের দাবি, ইসলামপুর কলেজে ডিসিআরসি কেন্দ্রে হাজিরা দিয়ে সই করার পর থেকেই তাঁর আর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। সম্ভাব্য সমস্ত জায়গায় খোঁজ চালানোর পর ইটাহার থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন তাঁর স্ত্রী সাবিনা হাঁসদা।
কীভাবে মিলল হদিস? শনিবার সকালেও দিশাহারা স্ত্রী রায়গঞ্জের পুলিশ সুপার কুলদীপ সোনাওয়ানের দপ্তরে গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সমীর আহমেদের সঙ্গে দেখা করেন। পুলিশের তৎপরতায় তল্লাশি শুরু হতেই খবর আসে, সুফলবাবু ইটাহারের পতিরাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মহিনগরে তাঁর জামাইবাবু শান্তি সরেনের বাড়িতে রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাস্তায় তাঁকে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরতে দেখে পরিচিত কয়েকজন আটকে রেখে জামাইবাবুকে খবর দেন। এরপর জামাইবাবু তাঁকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।
স্মৃতিভ্রম নাকি অন্য কিছু? উদ্ধার হওয়ার পর সুফল মুর্মু পুলিশকে জানিয়েছেন, সেদিন ইসলামপুর ডিসিআরসিতে হাজিরা দেওয়ার পর তিনি শৌচালয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে খাবার খেতে বাইরে বেরোনোর পর থেকে তাঁর আর কিছুই মনে নেই। এমনকি কীভাবে তিনি ইসলামপুর থেকে অত দূরে নিজের আত্মীয়ের বাড়িতে পৌঁছালেন, সেই বিষয়েও তিনি কোনও স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেননি। তাঁর মোবাইল ফোনটিও হারিয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তদন্তে পুলিশ: রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সমীর আহমেদ জানিয়েছেন, “আমাদের পুলিশ টিম তদন্ত শুরু করে সব দিক খতিয়ে দেখছে।” শনিবার সন্ধ্যায় ইটাহার থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। মাঝখানের এই কয়েকদিন তিনি ঠিক কোথায় ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে ইটাহার থানার পুলিশ।