নিউজ ডেস্ক: দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে আর কোনও ‘অজুহাত’ শুনতে নারাজ নির্বাচন কমিশন। এবার সরাসরি টার্গেট বেঁধে দেওয়া হলো পুলিশকে। সোমবার রাত থেকেই প্রতিটি থানাকে তাদের এলাকার অন্তত ২০ জন করে ‘হিস্ট্রি শিটার’ বা দাগি অপরাধীকে গ্রেপ্তার করার কড়া নির্দেশ দিল কমিশন। নির্বাচনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে কমিশনের এই ‘নয়া ফরমান’ ঘিরে রীতিমতো হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের অন্দরে।
কেন এই কড়া দাওয়াই? কমিশনের পর্যবেক্ষকদের নজরে এসেছে যে, বারবার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও বড় মাপের অপরাধীদের ধরার ক্ষেত্রে থানাগুলির মধ্যে এক ধরণের অনীহা কাজ করছে। অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশ যুক্তি দিচ্ছে যে, অপরাধীরা পলাতক অথবা জামিনে থাকা ব্যক্তিদের পুনরায় গ্রেপ্তার করলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। কিন্তু কমিশনের সাফ কথা, নির্বাচনের দিন এলাকায় শান্তিভঙ্গের বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা রাখা যাবে না। বড় অপরাধীরা বাইরে থাকলে ভোটারদের প্রভাবিত করার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। তাই এবার ‘পলায়ন’ বা ‘আইনি জট’-এর যুক্তি আর খাটবে না।
জবাবদিহি করতে হবে ওসি-দের: পুলিশ পর্যবেক্ষকরা প্রতিটি থানার ‘বিগ’ হিস্ট্রি শিটারদের তালিকা নিয়েই ময়দানে নেমেছেন। সোমবার রাতের মধ্যেই তাঁদের পাকড়াও করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি কোনও থানা এই লক্ষ্যমাত্রা (২০ জন অপরাধী) পূরণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি-কে সরাসরি কমিশনের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। নির্দিষ্টভাবে জানাতে হবে, অভিযুক্তকে ধরতে আগে কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছিল এবং কেন শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হতে হলো।
বিপাকে পুলিশ মহল: কমিশনের এই কড়া নির্দেশের পর কার্যত রাতের ঘুম উড়েছে পুলিশ অফিসারদের। অনেকের মতে, একসাথে এতজন দাগি অপরাধীকে খুঁজে বের করে লকআপে ঢোকানো যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ ও চ্যালেঞ্জিং। একদিকে ভোটের ডিউটি, অন্যদিকে এই ‘ধ ধর পকড়’ অভিযান— দুই সামলাতে গিয়ে কালঘাম ছুটছে নিচুতলার পুলিশ কর্মীদের। তবে কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে দাগি অপরাধীদের বাগে আনতেই হবে।