নিউজ ডেস্ক: বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোট। তার আগে ‘ড্রাই ডে’ বা মদের দোকান বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে আখের গুছিয়ে নিতে চেয়েছিলেন ময়নাগুড়ির এক অসাধু ব্যবসায়ী। কিন্তু সেই গুড়ে বালি! মদ কেনার খদ্দের সেজে হানা দিয়ে পুলিশ হাতেনাতে পাকড়াও করল এক কারবারিকে। ময়নাগুড়ি নতুন বাজারের একটি গোপন গুদাম থেকে উদ্ধার হয়েছে মোট ১০৮৯টি দেশি ও বিদেশি মদের বোতল। এই ঘটনায় দক্ষিণ খাগড়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা লক্ষ্মণ সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশের ছক ও ‘চক্ষু চড়কগাছ’: নির্বাচনী বিধি মেনে সোমবার থেকেই এলাকায় মদের দোকানগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। খবর ছিল, এই সুযোগে নতুন বাজারের একটি গুদামে বিপুল মদ মজুত করে চড়া দামে তা বিক্রি করছে লক্ষ্মণ। গোপন সূত্রে খবর পেয়েই অভিযানে নামে ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ। কোনও তাড়াহুড়ো না করে সাদা পোশাকে খদ্দের সেজে লক্ষ্মণের কাছে মদ চাইতে যান তদন্তকারী আধিকারিকরা। মদ বের করতে যেতেই হাতেনাতে ধরা পড়ে যায় সে। গুদামের ভেতর তাকাতেই চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের। দেখা যায়, সারি সারি পেটিতে ঠাসা দেশি ও বিদেশি মদ।
মজুত ছিল ৯১০ বোতল দেশি মদ: পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাজেয়াপ্ত করা মদের মধ্যে ১৮৯ বোতল দামী বিদেশি মদ এবং ৯১০ বোতল দেশি মদ রয়েছে। ভোটের দিন এলাকায় নেশার আসর বসিয়ে বা ভোটারদের প্রলুব্ধ করতে এই মদ সরবরাহ করার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। ময়নাগুড়ি থানার আইসি সুবল দত্ত জানিয়েছেন, অবৈধভাবে অতিরিক্ত লাভের আশায় লক্ষ্মণ এই ব্যবসা ফেঁদেছিল। ধৃতের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
কড়া নজরদারি প্রশাসনের: ভোটের মুখে ডুয়ার্সের বিভিন্ন প্রান্তে অবৈধ মদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। আইসি-র স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “এলাকায় কোনও ভাবেই বেআইনি মদের কারবার চলতে দেওয়া হবে না। এই ধরণের নজরদারি নিয়মিত চলবে।” ময়নাগুড়ি নতুন বাজারের এই সাফল্যের পর অন্যান্য এলাকার গোপন ডেরাগুলিতেও তল্লাশি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা পুলিশ। প্রশাসনের এই অতি-সক্রিয়তা অসাধু ব্যবসায়ীদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।