নিউজ ডেস্ক: দ্বিতীয় দফার মহারণে দক্ষিণ ২৪ পরগনার স্পর্শকাতর অলিগলি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড়সড় চাল চালল প্রশাসন। বুধবার ভোটের দিন বারুইপুর পুলিশ জেলাজুড়ে দাপিয়ে বেড়াবে পুলিশের ২০০টি মোটরবাইকের একটি বিশেষ বাহিনী। সোনারপুর, বারুইপুর বা মেটিয়াবুরুজের মতো ঘিঞ্জি এলাকায় যেখানে বড় গাড়ি ঢোকা অসম্ভব, সেখানে নিমেষের মধ্যে পৌঁছে যাবে এই ‘কুইক রেসপন্স টিম’ (QRT)। ভোটারদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং বুথ জ্যাম রুখতে এই নয়া রণকৌশল নিয়েছে কমিশন।
গলি সামলাতে বাইক বাহিনী: বারুইপুর পুলিশ জেলার অন্তর্গত ১০টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে সোনারপুর, কসবা এবং মেটিয়াবুরুজের মতো এলাকাগুলিতে অলিগলির সংখ্যা বেশি। অনেক সময় দুষ্কৃতীরা এই গলি পথগুলিকে ব্যবহার করে ভোটারদের আটকানোর চেষ্টা করে। বারুইপুর পুলিশ জেলার কর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি বাইকে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা মিলেমিশে থাকবেন। কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই সাইরেন বাজিয়ে গলি চিরে পৌঁছে যাবে এই বাহিনী। মূলত শহরকেন্দ্রিক বিধানসভাগুলিতেই এই বাইক বাহিনীর ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।
কিউআরটি-র সংখ্যায় বড় লাফ: নির্বাচন অবাধ করতে বারুইপুর পুলিশ জেলায় ‘কুইক রেসপন্স টিম’-এর সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়ানো হয়েছে। প্রথমে ১৩৮টি দল নামানোর কথা থাকলেও, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আরও ১৬২টি অতিরিক্ত দল বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ শুধু বারুইপুরেই থাকছে ৩০০-র বেশি কিউআরটি। এছাড়া জেলাজুড়ে টহল দেবে ১৩টি ‘হেভি রেডিও ফ্লাইং স্কোয়াড’ (HRFS)। সব মিলিয়ে গোটা দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রায় ৭০০টি কিউআরটি মোতায়েন থাকছে।
বুথভিত্তিক নিরাপত্তার ছক: কমিশন ও জেলা প্রশাসনের বৈঠকে বুথভিত্তিক জওয়ান মোতায়েনের ফর্মুলাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। কোনও প্রাঙ্গণে দু’টি বুথ থাকলে সেখানে ৬ জন, তিনটি বুথ থাকলে ৮ জন এবং চারের বেশি বুথ থাকলে ১০ জনের বেশি কেন্দ্রীয় জওয়ান মোতায়েন থাকবেন। বারুইপুর থেকে গোসাবা, কুলতলি থেকে ভাঙড়— বিস্তীর্ণ এলাকার নিরাপত্তা বলয় এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে বুথমুখী হতে পারেন। পুলিশ কর্তাদের দাবি, এই ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে কোনও অবস্থাতেই বুথ চত্বরে অশান্তি পাকানো সম্ভব হবে না।