নিউজ ডেস্ক: ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বাড়িতে গিয়ে ‘হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগে বিদ্ধ নির্বাচন কমিশনের পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মার বিরুদ্ধে আপাতত কোনও কড়া পদক্ষেপ করল না কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার এক আইনজীবীর করা মৌখিক আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ২৯ এপ্রিল অর্থাৎ দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কোনও আধিকারিকের কাজে আদালত হস্তক্ষেপ করবে না। বিচারপতির এই পর্যবেক্ষণে ভোটের মেজাজে বড়সড় স্বস্তি পেলেন উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা এই দুঁদে আইপিএস অফিসার।
আইনজীবীর তোপ ও আদালতের অবস্থান: এদিন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এক আইনজীবী অভিযোগ করেন, অজয়পাল শর্মা নিজের এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে কাজ করছেন এবং সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাচ্ছেন। এমনকি উত্তরপ্রদেশে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা পুরনো মামলার প্রসঙ্গও তোলা হয় আদালতে। তবে আদালত স্পষ্ট জানায়, মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া এখনও অসম্পূর্ণ। পাশাপাশি বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, নির্বাচনের মতো জরুরি প্রক্রিয়ায় যাঁরা যুক্ত, তাঁদের কাজে এই মুহূর্তে বাধা দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে অভিযোগকারীকে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আদালত।
ফলতায় ‘সিংহম’ বনাম ‘পুষ্পা’ সংঘাত: প্রশাসনের দাবি, এলাকায় ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগে একটি তালিকা তৈরি করেছে কমিশন। সেই তালিকা মেনেই মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় বাহিনী ও সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে ফলতার বিভিন্ন গ্রামে তল্লাশি চালান অজয়পাল শর্মা। জাহাঙ্গীর খানের দলীয় কার্যালয়ের অদূরে একটি গ্রামে পৌঁছালে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। ওঠে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। এর আগেই পর্যবেক্ষকের ‘ধমক’ নিয়ে জাহাঙ্গীর খান পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছিলেন, “উনি সিংহম হলে আমি পুষ্পা। আমরা শুধু মানুষের সামনে মাথা নত করি।”
কমিশনের সক্রিয়তা বনাম তৃণমূলের অভিযোগ: তৃণমূলের অভিযোগ, জাহাঙ্গীর বা তাঁদের দলের কর্মীরা কাউকে ভয় দেখাননি, বরং পুলিশ পর্যবেক্ষকই সাধারণ মানুষকে শাসাচ্ছেন। যদিও কমিশনের দাবি, অবাধ ভোট নিশ্চিত করতেই এই ধরণের ‘এরিয়া ডোমিনেশন’ চালানো হচ্ছে। আদালতের আজকের এই পর্যবেক্ষণের পর ফলতা-সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ পর্যবেক্ষকদের এই কড়া মনোভাব যে আরও বাড়বে, তার ইঙ্গিত মিলেছে। এখন দেখার, বুধবারের হাই-ভোল্টেজ ভোটে এই প্রশাসনিক সক্রিয়তা ব্যালট বক্সে কী প্রভাব ফেলে।