নিউজ ডেস্ক: আগামীকাল, ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দ্বিতীয় দফার হাই-ভোল্টেজ নির্বাচন। তার আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই রাজ্যের সাত জেলায় একাধিক প্রশাসনিক বিধিনিষেধ বলবৎ করল মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তর। বিশেষ করে বাইক র্যালি ও মদের দোকান বন্ধ রাখা নিয়ে কমিশনের কড়া নির্দেশিকা এখন আমজনতার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট সুনিশ্চিত করতে বাইক চলাচলের ক্ষেত্রে যেমন কোপ বসানো হয়েছে, তেমনই কিছু ক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছে জরুরি ছাড়।
বাইক র্যালি ও পিলিয়ন রাইডিংয়ে নিষেধাজ্ঞা: কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে কোনও প্রকার মোটরবাইক র্যালি বা দলবদ্ধভাবে বাইক চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য বড় আপডেট হলো ‘পিলিয়ন রাইডিং’ বা বাইকের পিছনে আরোহী বসানো নিয়ে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই বাইকের পিছনে কাউকে বসানো যাবে না। অর্থাৎ, চালককে একা যাতায়াত করতে হবে। কোনওভাবেই যাতে বাইক বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে ভোটারদের ভয় দেখানো না হয়, তা সুনিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।
ছাড় মিলবে কোথায়? বিধিনিষেধ থাকলেও সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে বেশ কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে কমিশন। চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি ব্যবস্থা, পারিবারিক অনুষ্ঠান (যেমন বিয়েবাড়ি) অথবা স্কুল থেকে বাচ্চাদের আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে বাইকের পিছনে আরোহী নেওয়া যাবে। এছাড়া ওলা, উবার, জ়োমাটো বা সুইগির মতো ডেলিভারি সংস্থা এবং যথাযথ পরিচয়পত্র থাকা অফিসযাত্রীদের জন্য এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না। তবে মনে রাখতে হবে, রাস্তায় পুলিশি চেকিংয়ের সময় উপযুক্ত পরিচয়পত্র দেখানো বাধ্যতামূলক।
ভোটের দিনের নিয়মাবলী: আগামীকাল অর্থাৎ ২৯ তারিখ সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মোটরবাইকে যাতায়াত করা যাবে। তবে কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই ছাড় শুধুমাত্র ভোট দিতে যাওয়ার জন্য এবং অন্যান্য জরুরি প্রয়োজন মেটানোর জন্যই প্রযোজ্য হবে। কোনও রকম রাজনৈতিক উস্কানি বা দলবদ্ধ যাতায়াত নজরে এলে কড়া ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।
মদের বাজারে তালা: নির্বাচন অবাধ করতে দ্বিতীয় দফার ভোটের আট দিন আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে মদের দোকান এবং গোডাউনগুলি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলায় অবৈধ মদের কারবারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বুথমুখী হতে পারেন, তার জন্যই এই কঠোর গাইডলাইন সাজিয়েছে কমিশন।