নিউজ ডেস্ক: আমের শহর মালদহে এবার বিধানসভা নির্বাচনের লড়াই হলো আক্ষরিক অর্থেই হাড্ডাহাড্ডি। জেলার ১২টি আসনের মধ্যে শেষ পর্যন্ত লড়াই থামল ৬-৬ সমীকরণে। ২০২১ সালের তুলনায় বিজেপি নিজের শক্তি বাড়িয়ে ৬টি আসন দখল করেছে, অন্যদিকে গতবারের তুলনায় দুটি আসন খুইয়ে তৃণমূলকেও ৬টি আসনেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। তবে সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, একুশের মতো ছাব্বিশের নির্বাচনেও মালদহের মাটিতে ঠাঁই পেল না একদা দাপুটে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস।
তৃণমূলের দখলে থাকা আসনগুলির মধ্যে চাঁচল, হরিশ্চন্দ্রপুর, মালতীপুর, রতুয়া, মোথাবাড়ি ও সুজাপুর অন্যতম। চাঁচলে ৬৩,৮৭৫ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। হরিশ্চন্দ্রপুরে মতিবুর রহিমান এবং মালতীপুরের হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ে আব্দুর রহিম বক্সি জয়ী হয়েছেন। এসআইআর ইস্যুতে উত্তপ্ত মোথাবাড়ি কেন্দ্রেও শেষ হাসি হেসেছেন তৃণমূলের মহম্মদ নজরুল ইসলাম। সুজাপুর কেন্দ্র থেকে সাবিনা ইয়াসমিন ৬০,২৮৭ ভোটে জয়ী হয়ে নিজের দাপট বজায় রেখেছেন। রতুয়ায় অশীতিপর সমর মুখোপাধ্যায় টানা চতুর্থবার জিতে রেকর্ড গড়েছেন।
বিজেপির উত্থান মালদহে এবার অত্যন্ত স্পষ্ট। গাজোল, হবিবপুর, মানিকচক, মালদহ, বৈষ্ণবনগর ও ইংলিশবাজার কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন গেরুয়া প্রার্থীরা। হবিবপুরে জোয়েল মুর্মু ৭৮,১৮৮ এবং ইংলিশবাজারে অম্লান ভাদুড়ি রেকর্ড ৯৩,৭৮৪ ভোটে জয়ী হয়েছেন। গতবার তৃণমূলের দখলে থাকা বৈষ্ণবনগর ও মানিকচক এবার ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি। বৈষ্ণবনগরে রাজু কর্মকার এবং মানিকচকে গৌরচন্দ্র মণ্ডল পদ্ম পতাকা উড়িয়েছেন। মালদহ বিধানসভা কেন্দ্রেও তৃণমূলের জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা বর্মন ঘোষকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন গোপাল চন্দ্র সাহা।
মালদহের এই ফলাফল বিশ্লেষণে স্পষ্ট যে, মেরুকরণের রাজনীতি এবং স্থানীয় সমীকরণগুলিই জয়ের চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করেছে। জেলার অর্ধাংশ তৃণমূল ধরে রাখতে পারলেও, বিজেপির দুই আসন বৃদ্ধি ঘাসফুল শিবিরের জন্য কিছুটা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, বাম ও কংগ্রেসের এই পরাজয় তাঁদের রাজনৈতিক অস্তিত্বের ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন ঝুলিয়ে দিল।