নিউজ ডেস্ক: একদা বামেদের ‘লাল দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত বর্ধমান ২০১১-র পরিবর্তনের পর তৃণমূলের অন্যতম অভেদ্য ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬-এর নির্বাচনে সেই ‘সবুজ দুর্গ’ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল। পূর্ব বর্ধমান জেলার ১৬টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৪টিতেই জয়ী হয়েছে বিজেপি। এই মহাবিপর্যয়ে পরাজয় স্বীকার করতে হয়েছে বিদায়ী মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর মতো দাপুটে নেতাদের। এমনকি জেলা পরিষদের সভাধিপতিও আউশগ্রাম কেন্দ্র থেকে কলিতা মাঝির কাছে ১২,৫৩৫ ভোটে হেরে গিয়েছেন।
বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্রে বিজেপির মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র ৩০,৪৭০ ভোটের ব্যবধানে তৃণমূলের খোকন দাসকে পরাজিত করে ইতিহাস গড়েছেন। মন্তেশ্বরে বিদায়ী মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীকে ১৪,৭৯৮ ভোটে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি। পূর্বস্থলী দক্ষিণ কেন্দ্রেও অঘটন ঘটেছে; সেখানে ১৬,২৫৮ ভোটে পরাজিত হয়েছেন দীর্ঘদিনের বিধায়ক ও মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। তবে এই ঝড়ের মধ্যেও খণ্ডঘোষ কেন্দ্রে নিজেদের আসনটি রক্ষা করতে পেরেছে তৃণমূল। সেখানে নবীনচন্দ্র বাগ ৮,২৮৪ ভোটে জয়ী হয়েছেন। বর্ধমান উত্তর আসনেও তৃণমূলের নিশীথ কুমার মালিক জয়ী হয়েছেন, যা তৃণমূলের জন্য জেলায় দ্বিতীয় জয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মতুয়া ভোটব্যাঙ্কের বিজেপি-মুখী হওয়া এবং মহিলা ভোটারদের বড় অংশের সমর্থন গেরুয়া শিবিরের দিকে ঝুঁকে যাওয়ায় এই অভাবনীয় ফল। এছাড়া ভাতার ও জামালপুরের মতো গ্রামীণ এলাকাগুলিতে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে ফাটল ধরায় তৃণমূলের বিপর্যয় ত্বরান্বিত হয়েছে। ভাতারে বিজেপি প্রার্থী সৌমেন কার্ফা ৬,৪২৭ ভোটে এবং কালনায় সিদ্ধার্থ মজুমদার ২৮,৬৩০ ভোটে জয়ী হয়েছেন। মেমারি ও জামালপুর কেন্দ্রেও তৃণমূল মুখ থুবড়ে পড়েছে।
পরাজয়ের পর স্বপন দেবনাথের মতো বর্ষীয়ান নেতাও বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, “মানুষের রায় মাথা পেতে নিচ্ছি, কিন্তু কাজ করার পরও কেন এই ফল হলো তা খতিয়ে দেখতে হবে।” অন্যদিকে, গলসির বিজেপি প্রার্থী রাজু পাত্র ১০,৪৯৪ ভোটে জয়ী হয়ে দাবি করেছেন, তৃণমূলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়েই মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে। বর্ধমান শহরের রাজপথ এখন গেরুয়া আবিরে রঙিন, যা এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।