নিউজ ডেস্ক: শুভেন্দু অধিকারীর খাসতালুক তথা অধিকারীদের গড় পূর্ব মেদিনীপুরে আক্ষরিক অর্থেই মহাপ্রলয় ঘটে গেল। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে জেলার ১৬টি আসনের সবকটিতেই জয়লাভ করে ক্লিন সুইপ করল বিজেপি। একুশের নির্বাচনে জেলাজুড়ে যে লড়াইয়ের আভাস ছিল, ছাব্বিশে তা পূর্ণাঙ্গ ঝড়ে রূপ নিল। ১৬-০ ব্যবধানে ধরাশায়ী হয়ে কার্যত মাথা নিচু করে গণনাকেন্দ্র ছাড়তে হয়েছে চারবারের বিধায়ক অখিল গিরি থেকে শুরু করে জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিকদের।
এদিন সকাল থেকেই তমলুক, কাঁথি, হলদিয়া থেকে রামনগর— সর্বত্রই পদ্ম শিবিরের জয়জয়কার শুরু হয়। তমলুকে জেলাশাসকের অফিসের সামনে বিজেপির জায়ান্ট স্ক্রিনে লিড দেখানোর সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় গেরুয়া আবির খেলা। উল্টোদিকে, তৃণমূল ও সিপিএমের ক্যাম্পগুলো দুপুরের মধ্যেই জনশূন্য হয়ে পড়ে। ময়না কেন্দ্রে জয়ের পর বিজেপি প্রার্থী অশোক দিন্ডা যখন চন্দন মণ্ডলের পরাজয় নিশ্চিত করেন, তখন ময়দানের উত্তাপ তুঙ্গে ওঠে।
এই মহাবিপর্যয়ের নেপথ্যে ইভিএম নিয়ে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল প্রার্থীরা। হলদিয়ার তাপসী মণ্ডল ও ময়নার চন্দন মণ্ডলের দাবি, ভোট হওয়ার ১০ দিন পরও ইভিএমে ৯০-৯২ শতাংশ চার্জ থাকা রহস্যজনক। অন্যদিকে, পাঁশকুড়া পূর্বের প্রার্থী অসীম মাজি অভিযোগ করেছেন, গণনাকেন্দ্রের ভেতরেই কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন যোগসাজশ করে মাইক্রোফোনে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়েছে। তবে দলের অন্দরে ‘অন্তর্ঘাত’ এবং ‘দিনে তৃণমূল, রাতে বিজেপি’ তকমাধারী নেতাদের ভূমিকাও এই পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
অখিল গিরি, সুকুমার দে বা উত্তম বারিকের মতো হেভিওয়েটদের এই শোচনীয় পরাজয় মেদিনীপুরের মাটিতে তৃণমূলের অস্তিত্বকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে বলেন, “গণতন্ত্রে মানুষ কেন মুখ ফেরালেন, তা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিশ্চয়ই পর্যালোচনা করবেন।” বর্তমানে গোটা জেলা জুড়ে পদ্ম পতাকার দাপট এবং গেরুয়া আবিরে এক নতুন রাজনৈতিক ইতিহাসের সূচনা হলো।