নিউজ ডেস্ক: ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলায় এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন— কোথায় গেলেন জাহাঙ্গির খান? তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী তথা ফলতার দোর্দণ্ডপ্রতাপ এই নেতা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই এলাকাছাড়া। সূত্রের খবর, সরকার বদলের আঁচ পেয়েই দলবল নিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন জাহাঙ্গির। তবে জলপথে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালানোর আগেই সুন্দরবন এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তাঁকে নজরবন্দি করে ফেলেছেন বলে জানা গিয়েছে।

ভোটের আগে পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মা (আইপিএস) জাহাঙ্গিরের বাড়িতে গিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তার জবাবে জাহাঙ্গির নিজেকে ‘পুষ্পা’ বলে দাবি করে জানিয়েছিলেন, তিনি কারও কাছে মাথা নোয়াবেন না। কিন্তু ৪ মে দুপুরে যখন স্পষ্ট হয়ে যায় যে রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়তে চলেছে, তখনই পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে শাগরেদদের নিয়ে ডেরা ছাড়েন তিনি। এরপর থেকেই তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ।

জাহাঙ্গির এলাকা ছাড়তেই ফলতার সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে শুরু করেছেন। অভিযোগ উঠছে, জাহাঙ্গিরের বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অপহরণ, মারধর, এমনকি মহিলাদের ওপর পাশবিক অত্যাচারের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। ফলতা থানার পুলিশকেও এই নেতার অঙ্গুলিহেলনে চলতে হতো বলে সরব হয়েছেন পুলিশকর্মীদেরই একাংশ। বর্তমানে কেন্দ্রীয় বাহিনী সুন্দরবন সংলগ্ন নদীপথ ও স্থলসীমান্তে কড়া পাহারা বসিয়েছে, যাতে জাহাঙ্গির কোনোভাবেই সীমান্ত পার হতে না পারেন।

একইসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত পুলিশকর্তা শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিশ জারি করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগে অভিযুক্ত ডিসি পদমর্যাদার এই অফিসারের খোঁজে দেশের সমস্ত বিমানবন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ক্ষমতা হস্তান্তরের এই সন্ধিক্ষণে প্রশাসনের ‘ঘনিষ্ঠ’ নেতা ও অফিসারদের ওপর আইনি এই সাঁড়াশি চাপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Share on Social Media