নিউজ ডেস্ক: বাংলার ক্ষমতার পালাবদল নিশ্চিত হতেই দীর্ঘ ১৫ বছরের এক ‘অভেদ্য’ নিরাপত্তা বেষ্টনীর অবসান ঘটল কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে থেকে সরে গেল অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় গার্ড রেল ও পুলিশের বিশাল বাহিনী। মঙ্গলবার থেকেই লালবাজারের পক্ষ থেকে এই নিরাপত্তা কাটছাঁটের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যার ফলে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর ওই রাস্তা দিয়ে সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াত শুরু হলো।
প্রশাসন সূত্রে খবর, এতদিন হাজরা মোড় থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক হাজার পুলিশ কর্মী মোতায়েন থাকতেন। প্রতি ৫০ মিটারে কড়া পাহারার পাশাপাশি বাইরের যে কোনও ব্যক্তির প্রবেশ ছিল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। পরিচয়পত্র দেখানো এবং হাজারো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পরেই মিলত প্রবেশের অনুমতি। কিন্তু মঙ্গলবার থেকেই সেই ছবি বদলে গিয়েছে। স্বয়ংক্রিয় ব্যারিকেড সরিয়ে সাধারণ বাঁশের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং বহিরাগতদের জিজ্ঞাসাবাদের কড়াকড়ি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এক হাজারের বদলে এখন মাত্র ৫০ জন পুলিশ কর্মী সেখানে ডিউটি করছেন।
একই চিত্র দেখা গিয়েছে তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও। তাঁর বাড়ি ও ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস থেকে পুলিশি নিরাপত্তা তুলে নেওয়া শুরু হয়েছে। এখন থেকে ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার বদলে সাব-ইনস্পেক্টর স্তরের আধিকারিকরা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। এমনকি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সচিব এবং আই-প্যাক (I-PAC) কর্তাদের বাড়িতে নিয়ম ভেঙে মোতায়েন করা পুলিশ কর্মীদেরও অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কার নির্দেশে আই-প্যাকের অফিস বা অ-প্রশাসনিক ব্যক্তিদের বাড়িতে সরকারি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান শুরু করেছে লালবাজার। সব মিলিয়ে ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে কলকাতার ভিভিআইপি (VVIP) জোনগুলোর চেহারা রাতারাতি পাল্টে যেতে শুরু করেছে।