নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ৪৯ বছর পর কলকাতা হাইকোর্টে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মাহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিত। বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে এবার রাজ্য ও কেন্দ্র— উভয় পক্ষেই একই রাজনৈতিক দলের প্যানেলভুক্ত আইনজীবীরা সওয়াল করবেন। আইনি মহলের মতে, এর ফলে আদালত কক্ষে এতদিন ধরে চলা রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাতের ছবিটা আমূল বদলে যেতে চলেছে।
সাধারণত, রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেন অ্যাডভোকেট জেনারেলের নেতৃত্বাধীন সরকারি আইনজীবীরা এবং কেন্দ্রের পক্ষে থাকেন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেলের নেতৃত্বাধীন প্যানেল। গত পাঁচ দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লিতে ভিন্ন দলের সরকার থাকায় অধিকাংশ জনস্বার্থ মামলা বা প্রশাসনিক বিষয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের আইনজীবীদের মধ্যে মতপার্থক্য এবং বিরোধিতার সুরই ছিল দস্তুর। এবার ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় দুই পক্ষের আইনজীবীদের একই সুরে সওয়াল করতে দেখা যাবে, যা মামলার গতিপ্রকৃতিতে বড় প্রভাব ফেলবে।
১৯৭৭ সালের আগে অর্থাৎ কংগ্রেস আমলে শেষবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তারপর দীর্ঘ সময় বামফ্রন্ট ও তৃণমূল জমানায় দিল্লি বনাম কলকাতার আইনি লড়াই দেখেছে হাইকোর্ট। বর্তমানে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ও ডেপুটি সলিসিটর জেনারেলের পদে কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবীরা বহাল রয়েছেন। এখন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (AG) এবং সরকারি আইনজীবীদের নতুন প্যানেল তৈরি করবে বিজেপি সরকার।
এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে মঙ্গলবারই রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন কিশোর দত্ত। তিনি রাজ্যপাল আর.এন. রবির কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে তিনি এই দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। এখন নতুন অ্যাডভোকেট জেনারেল কে হবেন, সেই নাম রাজ্য সরকার রাজভবনে পাঠাবে এবং রাজ্যপাল তাঁকে নিয়োগ করবেন।
এদিকে, সরকার গঠনের এই সন্ধিক্ষণে একটি তাৎপর্যপূর্ণ আবেদন জানিয়েছেন বিজেপির আইনজীবীরা। মঙ্গলবার আইনজীবী সুস্মিতা সাহা দত্ত প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনুরোধ করেন যে, রাজ্যের বর্তমান প্রশাসনিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সরকার সম্পর্কিত কোনও মামলার রায় যেন এই মুহূর্তে ঘোষণা না করা হয়। এই সন্ধিক্ষণে হাইকোর্টের অলিন্দে এখন নতুন প্যানেল এবং নতুন এজি-র নাম নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।