নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: চশমা ছাড়া আবছা নজরেই কি তবে ‘হলুদ-কালো’ ডোরার দর্শন পেলেন বৃদ্ধ? নাকি শীতের জঙ্গলে ফের সত্যি সত্যিই ফিরে এল দক্ষিণরায়? পুরুলিয়ার বোরো থানার সগেডি গ্রামের এক বাসিন্দার দাবি ঘিরে রবিবার থেকে তোলপাড় জেলা। গোলাপাড়ার জঙ্গলে বাঘ দেখার খবর চাউর হতেই বনদফতর তড়িঘড়ি তল্লাশি শুরু করলেও, রহস্য দানা বেঁধেছে প্রত্যক্ষদর্শীর দৃষ্টিশক্তি নিয়ে বনকর্তাদের মন্তব্যে।
সগেডি গ্রামের বাসিন্দা বদন মান্ডি জানিয়েছেন, রবিবার সকাল ৮টা নাগাদ সাইকেলে ধানের বস্তা নিয়ে গোলাপাড়ার জঙ্গলপথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। চড়াই রাস্তায় সাইকেল থেকে নামতেই মাত্র ৫০ ফুট দূরে তিনি এক বিশালকায় জন্তুকে দেখতে পান। বদনের দাবি, “হাততালি দিতেই জন্তুটি জঙ্গলের গভীরে চলে যায়। আমি আর এক মুহূর্ত দেরি না করে সাইকেল ছুটিয়ে গ্রামে ফিরে খবর দিই।”
মানবাজার-২ বনাঞ্চলের বনকর্মীরা গ্রামবাসীদের নিয়ে তল্লাশিতে নামলেও পশুর অস্তিত্ব বা পায়ের ছাপের কোনও প্রমাণ মেলেনি। শক্ত কাঁকুরে মাটিতে ছাপ না পড়াই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন অনেকে। তবে ধন্দ কাটাতে সোমবার বদনবাবুকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সুরুুলিয়া চিড়িয়াখানায়। সেখানে খাঁচার বাঘ বা অন্যান্য বন্যপ্রাণী শনাক্ত করতে গিয়েই বাধে বিপত্তি। কংসাবতী দক্ষিণ বনবিভাগের ডিএফও পূরবী মাহাতো বলেন, “বদনবাবুর দৃষ্টিশক্তি বেশ কম। চিড়িয়াখানায় ৩০ ফুট দূরের জন্তুও তিনি ঠিকমতো চিনতে পারছেন না। জঙ্গলে চশমা ছাড়াই যাচ্ছিলেন। ফলে ৫০ ফুট দূরে থাকা জন্তুটিকে তিনি সঠিক চিনেছেন কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।”
পুরুলিয়ার জঙ্গলে বাঘের আনাগোনা অবশ্য নতুন কিছু নয়। ২০২৪ সালে সিমলিপাল থেকে আসা বাঘিনী ‘জিনাত’ দীর্ঘদিন বনদফতরকে ঘোল খাইয়েছিল। ২০২৫-এর গোড়াতেও দলমা থেকে আসা একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘের হদিস মিলেছিল ঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়ার সীমানায়। গত ২০ জানুয়ারিও বান্দোয়ানে পায়ের ছাপ ঘিরে হইচই হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এদিনের দাবিকে একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসন। সন্দেহ দূর করতে গোলাপাড়া ও সংলগ্ন জঙ্গলে ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানোর তোড়জোড় শুরু করেছে বনদফতর। আপাতত অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য গ্রামবাসীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।