শিলিগুড়ি: ধোঁয়া উড়িয়ে পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে ছন্দ তুলে এগিয়ে চলা সেই ছোট রেল এখন কেবল পর্যটকদের নস্ট্যালজিয়া নয়, বরং রেলের কোষাগারের লক্ষ্মী। দীর্ঘ ১৪২ বছরের ইতিহাসে গত ২০২৫ সালটি ছিল টয় ট্রেনের জন্য ‘স্বর্ণযুগ’। নজিরবিহীনভাবে ২৬.৪ কোটি টাকা আয় করে হেরিটেজ তকমাধন্য এই রেল পরিষেবা এখন রীতিমতো স্বাবলম্বী। একসময় যে ট্রেন চালাতে রেলকে বিপুল অঙ্কের ভর্তুকি গুনতে হতো, আধুনিকতা আর ঐতিহ্যের মিশেলে আজ তার ছবিটা আমূল বদলে গিয়েছে।
দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ২১.২ কোটির রেকর্ড ছাপিয়ে গত বছর আয়ের গ্রাফ ছুঁয়েছে ২৬.৪ কোটিতে। যাত্রী সংখ্যাও ১.৭৪ লক্ষ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.১০ লক্ষে। কিন্তু এই সাফল্যের রহস্য কী? ডিএইচআর সূত্রের খবর, মূলত ব্রিটিশ আমলের স্টিম ইঞ্জিন আর কামরাগুলির ভোলবদল এবং পাহাড়ের রোমাঞ্চকর ‘লাভ স্টোরি’ ও ইতিহাসকে স্মারক হিসেবে পর্যটকদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনাটি দারুণ কাজে লেগেছে।
তবে চমকের এখানেই শেষ নয়। আগামী দিনে টয় ট্রেনের কামরাতেই সানাইয়ের সুর বাজার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সব ঠিক থাকলে পাহাড়ের চড়াই-উতরাইয়ে ট্রেনের মধ্যেই সারা যাবে বিয়ের অনুষ্ঠানও। এর পাশাপাশি এনজেপি থেকে তিনধরিয়া পর্যন্ত বেসরকারি উদ্যোগে বিশেষ পরিষেবা এবং গরমের ছুটিতে বাড়তি চারটি ‘জয় রাইড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বিদেশি পর্যটকদের আরও বেশি করে আকর্ষণ করতে আন্তর্জাতিক পর্যটন সম্মেলনগুলিতেও এবার স্টল দেবে ডিএইচআর। সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রে টয় ট্রেন এখন সাফল্যের অন্য নাম।