তমলুক: ভালোবাসার আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক ভয়ঙ্কর ছক। বিয়ের পর অভাবী স্ত্রীর কিডনি ১১ লক্ষ টাকায় বেচে মোটা অর্থ উপার্জনের পরিকল্পনা করেছিল এক পাষণ্ড স্বামী। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমারে এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় স্বামীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক চার্জশিট পেশ করল পুলিশ। এই মামলায় ইতিমধ্যেই গৃহবধূর স্বামী কার্তিক চক্রবর্তী এবং কিডনি বিক্রির এজেন্ট মিলন পাত্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২ ফেব্রুয়ারি, সোমবার নন্দকুমার থানার পুলিশ পূর্ব মেদিনীপুর সিজেএম কোর্টে চার্জশিট জমা দেওয়ার পর ধৃতদের জামিনের সব পথ আপাতত বন্ধ। সরকারি আইনজীবী সফিউল আলি খানের মতে, এবার দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
পুলিশ সূত্রে খবর, নন্দকুমারের কুমোরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কার্তিক চক্রবর্তী তমলুক শহরে একটি প্যাথলজি ল্যাব চালাত। ২০২২ সালের ১৫ মার্চ মহিষাদলের বেতকুণ্ডুর গণিত স্নাতক দেবযানী সামন্তের সঙ্গে ভালোবেসে তার বিয়ে হয়। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে কার্তিক। দেবযানী বাবা হারা এবং টিউশনি করে সংসার চালানো মেয়ে, যৌতুক দেওয়ার ক্ষমতা তার ছিল না। তখনই কার্তিক তার স্ত্রীর কিডনি বিক্রির ছক কষে।
তদন্তকারী অফিসার রঞ্জিত মান্না জানান, ১১ লক্ষ টাকায় দেবযানীর কিডনি বিক্রির জন্য কার্তিক খেজুরি এলাকার এজেন্ট মিলন পাত্রের সঙ্গে চূড়ান্ত কথাবার্তা সেরে ফেলেছিল এবং অগ্রিম টাকাও নিয়েছিল। কলকাতার নামী বেসরকারি হাসপাতালেও স্ত্রীর শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়। কিন্তু দেবযানী কিডনি দিতে রাজি না হওয়ায় তার ওপর শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। শেষমেশ নিরুপায় হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই বধূ। গত ২ নভেম্বর পুলিশ কার্তিককে গ্রেফতার করে। এরপর ২২ ডিসেম্বর খেজুরি থেকে মিলন পাত্রকেও ধরা হয়। অভিযোগ, মিলন পাত্র মূলত দুঃস্থ ও অভাবী বধূদের খুঁজে বের করে মোটা কমিশনের বিনিময়ে কিডনি বিক্রির এই চক্র চালাত। এই মুহূর্তে স্বামী ও এজেন্ট, দু’জনেই জেলবন্দি।