বহরমপুর: পুলিশের কড়া প্রহরা, চারদিকে সাধারণ মানুষের ভিড়— এই সব কিছুর মাঝখান দিয়েই যেন সিনেমার কায়দায় ভোজবাজির মতো উধাও হয়ে গেলেন এক জেলবন্দি। শুক্রবার সকালে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গেট থেকে সামিউল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশি বন্দি পালানোর ঘটনায় জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের অন্দরে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অনুপ্রবেশের দায়ে ধৃত ওই যুবক কীভাবে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে চম্পট দিলেন, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে খবর, সামিউল ইসলাম গত ছয় মাস ধরে মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে বন্দি ছিলেন। শারীরিক পরীক্ষার প্রয়োজনে শুক্রবার সকালে জেল পুলিশের একটি দল তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হাসপাতালের গেটের সামনে গাড়ি থেকে নামার মুহূর্তেই অতর্কিতে ঝটকা মেরে পুলিশের হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেন সামিউল। এরপর মুহূর্তের মধ্যে হাসপাতালের ব্যস্ত ভিড়ের মধ্যে মিশে যান তিনি। পুলিশ কর্মীরা পিছু ধাওয়া করেও শেষরক্ষা করতে পারেননি।
এই ঘটনার পরেই বহরমপুর শহর জুড়ে ‘হাই-অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। সামিউলের খোঁজে শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও নাকা পয়েন্টগুলোতে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী থানাগুলিকেও বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। কর্তব্যে গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্য়েই বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের হেফাজত থেকে এভাবে বন্দি পালানোর ঘটনায় রীতিমতো অস্বস্তিতে জেলা পুলিশ কর্তৃপক্ষ।