নিজস্ব সংবাদদাতা- রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে সোমবার কড়া বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন যে পদ্ধতিতে ভোটারদের নোটিস পাঠাচ্ছে, তা নিয়ে যেমন প্রশ্ন তুলল শীর্ষ আদালত, তেমনই কর্মীদের নামের তালিকা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করলেন বিচারপতিরা। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের বাধা আদালত বরদাস্ত করবে না।
এদিন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চে দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা শুনানি চলে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান আদালতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, নামের বানানে সামান্য ভুলের জন্য যেন গণহারে ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ না দেওয়া হয়। অন্যদিকে, কমিশনের সফটঅয়্যার টুলের কার্যকারিতা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। তিনি বলেন, “বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে আপনাদের সফটঅয়্যারের মিল নেই। নামের মাঝে ‘কুমার’ না থাকলেই নোটিস পাঠানো হচ্ছে। পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সফটঅয়্যার অত্যন্ত কঠোর মনোভাব দেখাচ্ছে।”
শুনানিতে নবান্নের পেশ করা তথ্যেও অসঙ্গতি ধরা পড়ে। রাজ্য ৮,৫০৫ জন কর্মী দিলেও তাঁরা কোন স্তরের আধিকারিক, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়। কমিশনের দাবি, রাজ্য প্রয়োজনীয় ‘গ্রুপ-বি’ আধিকারিকদের বদলে নিচু তলার কর্মী পাঠাচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে আদালত নির্দেশ দেয়, মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে সমস্ত আধিকারিককে কাজে যোগ দিতে হবে এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
পাশাপাশি, রাজ্যে এসআইআর সংক্রান্ত ফর্ম পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় এফআইআর না হওয়া এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে আদালত। এই ঘটনায় রাজ্যের পুলিশ মহানির্দেশককে (ডিজি) শোকজ় করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, নথিপত্র যাচাইয়ের চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকবে ইআরও-দের হাতেই। মাইক্রো অবজার্ভাররা কেবল সহায়তা করবেন। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারির পর ইআরও-দের আরও এক সপ্তাহ সময় দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এর ফলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ আরও পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই হাই-প্রোফাইল মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ২০ ফেব্রুয়ারি।