বিশেষ প্রতিনিধি, ১৭ নভেম্বর, মালদা:-
মালদহের মাটিতে দাঁড়িয়ে ইতিহাসের এক বিস্মৃত অধ্যায়কে নতুন করে জীবন্ত করে তুললেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর সেই মুহূর্তেই আবেগে ভিজে উঠল তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের মন। কারণ, যে নামটি প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে উচ্চারিত হল, সেই মানুষটি শুধু ইতিহাসের নায়ক নন—তিনি সুখেন্দুশেখরের পিতা, শিবেন্দুশেখর রায়।
শনিবার মালদহের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী মোদী ভাষণের শুরুতেই শ্রদ্ধা জানালেন “মালদহের মহান সুপুত্র” শিবেন্দুশেখর রায়কে। বললেন, তাঁর উদ্যোগেই মালদহের পরিচয় আজও অক্ষুণ্ণ। দেশভাগের উত্তাল সময়ে, যখন মালদহকে পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি ছিল প্রবল, তখন একাই রুখে দাঁড়িয়েছিলেন শিবেন্দুশেখর রায়। সেই সাহসী ভূমিকার কথা ৭৮ বছর পর দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে স্মরণ করালেন প্রধানমন্ত্রী।
এই আবেগঘন মুহূর্তের সূচনা হয় আরও আগেই। সভামঞ্চে প্রধানমন্ত্রীকে প্রথম উপহার হিসেবে বিজেপির পক্ষ থেকে তুলে দেওয়া হয় ফ্রেমে বাঁধানো শিবেন্দুশেখর রায়ের বিরাট ছবি। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের হাতে সেই ছবি পৌঁছতেই চমকে যান উপস্থিত অনেকেই। বিজেপির সংবর্ধনায় তৃণমূল সাংসদের বাবার ছবি—রাজনীতির মঞ্চে এমন দৃশ্য বিরল।
শিবেন্দুশেখর রায় ছিলেন প্রাক্-স্বাধীনতা পর্বের খ্যাতনামা আইনজীবী, মালদহ জেলা হিন্দু মহাসভার সম্পাদক এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। দেশভাগের সময় বেঙ্গল বাউন্ডারি কমিশনের কাছে মালদহকে ভারতের অংশ হিসেবে রাখার যুক্তি তুলে ধরতে অক্লান্ত লড়াই চালিয়েছিলেন তিনি। ইতিহাসবিদ যদুনাথ সরকার থেকে অধ্যাপক বিধুশেখর শাস্ত্রী—অনেকেই সেই লড়াইয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর মঞ্চে বাবার নাম উচ্চারিত হলেও প্রতিক্রিয়ায় সংযত থাকলেন রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। আবেগ লুকোলেন না, কিন্তু কথায় রাখলেন পরিমিতি। তিনি বলেন, “৭৮ বছর আগে আমার বাবা যে ভূমিকা মালদহের জন্য নিয়েছিলেন, আজ তা প্রায় বিস্মৃত। মালদহের বর্তমান প্রজন্মও তা জানে না। এত বছর পরে মালদহের মাটিতে দাঁড়িয়ে যদি দেশের প্রধানমন্ত্রী সেই ইতিহাস মনে করিয়ে দেন, তাহলে তাঁর সন্তান হিসেবে গর্ব তো হবেই।”
রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে ইতিহাসের প্রতি এই স্বীকৃতি মালদহের মানুষকে শুধু আবেগতাড়িতই করেনি, মনে করিয়ে দিয়েছে—একজন মানুষের দৃঢ়তা কী ভাবে একটি জেলার ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।