নিজস্ব সংবাদদাতা, কাটোয়া:
একটির পর একটি মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ বাড়াচ্ছে কাটোয়ার ভাগীরথী। জাতীয় জলজ প্রাণী গাঙ্গেয় ডলফিন রক্ষায় প্রচার ও নজরদারি চললেও ফের নৃশংস ঘটনার সামনে এল কাটোয়া। বৃহস্পতিবার দুপুরে কাটোয়ার অগ্রদ্বীপের বাবলাডাঙা চৌধুরীপাড়া এলাকায় ভাগীরথীর তীরে একটি বাবলা গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় গাঙ্গেয় ডলফিন শাবকের কাটা মুখ-সহ মৃতদেহ উদ্ধার করল বনদপ্তর।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ডলফিন শাবকের মুখ নৃশংসভাবে কেটে একটি টিনের মধ্যে ঢুকিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে বনকর্মীদের অনুমান, পাচারকারীরা ডলফিনের তেল সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। ঘটনার তদন্তে পুলিশের সাহায্য নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের ডিএফও সঞ্চিতা শর্মা। তাঁর কথায়, “তেল সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই ডলফিনটিকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হবে।”
এদিন কাটোয়া-২ ব্লকের অগ্রদ্বীপের বাবলাডাঙা এলাকায় ভাগীরথীর তীরবর্তী একটি বাবলা গাছে দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ডলফিন শাবকের মৃতদেহ ঝুলতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে ছুটে আসে বনদপ্তরের দল। পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, বারবার এই ধরনের ঘটনা ঘটলেও দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, কাটোয়ার ভাগীরথীতে কল্যাণপুর থেকে পাটুলি পর্যন্ত প্রায় ৩২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গাঙ্গেয় ডলফিনের বিচরণক্ষেত্র রয়েছে। কয়েক বছর আগে কাটোয়ার শাঁখাই ঘাটে গাঙ্গেয় ডলফিন সংরক্ষণ কেন্দ্রও গড়ে তোলে রাজ্য বনদপ্তর। নিয়মিত গবেষণা ও নজরদারির কাজ চললেও ডলফিনের মৃত্যু ঠেকানো যাচ্ছে না। বর্তমানে এই এলাকায় আনুমানিক ৩২ থেকে ৩৫টি গাঙ্গেয় ডলফিন রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ডলফিন সংরক্ষণ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় রাজ্য বনদপ্তরের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড (ডব্লিউডব্লিউএফ–ভারত শাখা) সুন্দরবন প্রোগ্রামের গবেষকরা। সম্প্রতি তাঁরা নামখানা থেকে ফারাক্কা পর্যন্ত ভাগীরথীতে লঞ্চে করে সমীক্ষা চালান। পরে কাটোয়ার শাঁখাই ঘাট হয়ে ফেরেন তাঁরা।
এই সমীক্ষা দলে ছিলেন ডব্লিউডব্লিউএফ–ভারত শাখার সুন্দরবন প্রোগ্রামের ডিরেক্টর অনুরাগ দণ্ড, ডলফিন বিশেষজ্ঞ ডঃ শাহানাওয়াজ, গবেষক মৃদুলকান্তি কর-সহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা ডলফিনের গতিবিধি ও আচরণ পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ভাগীরথী ডলফিনের জন্য কতটা নিরাপদ, তা খতিয়ে দেখেন। ডলফিন সুরক্ষায় ব্যবহৃত পিঙ্গার যন্ত্র নিয়েও গবেষণা চালানো হচ্ছে।
তবুও বারবার ডলফিন হত্যার ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে—প্রচার ও গবেষণার পরেও কেন রক্ষা মিলছে না জাতীয় জলজ প্রাণীর।